ষ্টাফ রিপোর্টার :

জিয়াউল হক জুয়েল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার নয়া মাটি গ্রামের ইকবাল হোসেনের পুত্র, ছোটবেলা থেকেই সে ছিল একটু মেয়েলী স্বভাবের।

পরবর্তীতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে সমকামীতায়। এমনটাই উঠে এসেছে সুজন নামক একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে। জুয়েল অভিজাত পার্স হোটেল থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেল সহ অনেক হোটেলে সাপ্লাই দেয় সুন্দরী কলগার্ল।

জুয়েল এ্যারেঞ্জ করে কন্টাক নেয় বার। এসব বারে মদের পাশাপাশি উচ্চবিত্তদের মনোরঞ্জনে চলে ডিস্কো। জুয়েলের তত্ত্বাবধানে রয়েছে সুন্দরী ফাল্গুনী, পাখি, পিংকি, সাথী, শিমু সহ নাম না জানা অনেক সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে চলে জুয়েলের অন্ধকার জগৎ। এসব মেয়েরা প্রেমের অভিনয় করে অভিনব কায়দায় ব্ল্যাক মেইল করে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয় অর্থ।

পার্সোনাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মেয়েদেরকে অন্তরঙ্গ ভাবে কোন কাষ্টমারের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে ছবি তুলে, ভিডিও করে, ব্ল্যাক মেইল করে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। জুয়েল এসব অপকর্ম করে পাপিয়ার মতো মক্ষিরাণী তৈরি করছে। জুয়েলকে এসব কাজে সহযোগীতা করে তার পার্টনার মোকলেছ ও রাসেল। তার নিয়ন্ত্রণাধীন অনেক অন্ধকার জগতের সুন্দরী রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছে বলে জানা যায়।

জুয়েল বনশ্রী জি ব্লকে কিনেছে আলীশান ফ্ল্যাট। ইতিমধ্যে জুয়েল এবং তার সুন্দরী কলগার্ল গ্যাংয়ের কবলে পড়ে বেশ কয়েকটি গ্রুপ অব কোম্পানীর মালিককে তিথি নামক একজন সুন্দরী মেয়েকে দিয়ে ব্ল্যাক মেইল করে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে সরকারী আমলা, রয়েছে এমপি সহ চেয়ারম্যান, রয়েছে আশুগঞ্জের বিশাল সুদ ব্যবসায়ী। জুয়েলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে এসব বিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব ষড়যন্ত্র আমার কোন শত্রু হয়তো আপনাদেরকে এগুলো পাঠিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। সুজন এবং সংবাদে উল্লেখিত মেয়েদেরকে জানেন কিনা এমন প্রশ্নে জুয়েল বলেন, সুজন আমার আট বছরের বন্ধু। আর যে মেয়ে গুলোর নাম উল্লেখ করেছে তাদের সবাইকে চিনি, তারা সিঙ্গার এবং ডেন্সার। জুয়েল আরো জানায় তিনি লাইসেন্সধারী ইভেন্ট অর্গানাইজার বিভিন্ন হোটেল এবং অনুষ্ঠানের ইভেন্টের কাজ করে থাকেন। জুয়েল আরো বলেন, আমি কোন অপরাধ করিনা।

প্রাণের বাংলাদেশ তার কাছে জানতে চায়, তাহলে আপনি কি কোন মহৎ কাজ করেন। তখন জুয়েল অকপটে স্বীকার করেন আমি মহৎ কাজ করিনা। জুয়েল এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের সম্পদের হিসাব তাদের প্রতিদিনের কাজ সুন্দরী মেয়েদেরকে পুঁজি করে ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে এ যাবৎকাল কতগুলো অপরাধ সংঘটিত করেছে তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান। আগামী পর্বে থাকবে জুয়েলের অপরাধের ইতিবৃত্ত। সরকারের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে রাজধানী ঢাকার ৫০ থানার প্রায় পৌনে ১শ স্পটে ৪ শতাধিক হোটেল ও ৩ সহস্রাধিক বাসা-বাড়ী ও ফ্ল্যাটে চলছে জমজমাট দেহ ব্যবসা।

আর এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। আর তাদেরই খদ্দর হচ্ছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সহ আমলা-কামলারা। জানা যায়, বারিধারা বনানী ও গুলশান এলাকার দেড় শতাধিক গেষ্ট হাউজ সহ ৩০০ ফিটের হোয়াইট হাউজ, রিজেন্সির গোপন রুম ও সুইট ড্রিমে রাতের বেলায় চলে মদ জুয়া ও দেহ ব্যবসা। কাজ হাসিলের জন্য এখানে প্রায় দেয়া হয় ওম্মা ওম্মা নাইট, থার্সডে নাইট ও ককটেল পার্টি। এসব পার্টিতে দেশী-বিদেশী কলগার্লরা অংশ নিয়ে আগত ভিআইপি অতিথিদের মন রাঙিয়ে তুলে।

এছাড়া ৪ শতাধিক হোটেলের পাশাপাশি ২ সহস্রাধিক রেস্তরা, বিউটি পার্লার, ম্যাসেজ পার্লার, ক্লাব, বার, রেষ্ট হাউজ, ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়ীতে চলছে দেহ ব্যবসা। জানা যায়, নগরীর ৮৫ ভাগ আবাসিক হোটেলে প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার খদ্দেরের সমাগম ঘটে। আর এদের যৌনানন্দ দেয়ার জন্য সাড়ে ৫ হাজার ললনা নিজেদেরকে বিলীয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে মনোরঞ্জনের কাজে ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। গুলশান, নিকেতন, ধানমণ্ডি,বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এইরকম প্রায় ১৯ টি ফ্ল্যাট বাড়ির সন্ধান পান এই প্রতিবেদকরা।

এদের রেট তিনহাজার থেকে বিশ হাজার পর্যন্ত রয়েছে বলে জানা যায়।তাছাড়াও দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক গ্রহণ করা হয়। মাদকের ব্যবহার হোটেলেই সবচে’ বেশি নিরাপদ বিশেষত মদ। হোটেলের আসরে বাংলা মদ থেকে শুরু করে দামী গ্রীন লেবেল, হুসকি, রয়াল সেলুট ও জীন ভোদকাসহ সবই চলে। সাধারণ মানুষের চোখে ফাকি দিতে হোটেল নাইট এ্যাংগেল থেকে কোক, পেপসী ও আরসি কোলার খালি বোতলে মদ কিনে নিয়ে যায় খদ্দররা।

উল্লেখ্য যে, আগে বাসাবাড়ী ও ফ্লাটে পতিতাদের জন্য খদ্দর এনে দিত দালালরা আর এখন আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে লোকচক্ষুর অন্তরালে মোবাইলের মাধ্যমেই খদ্দর সংগ্রহ করে। মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, পশ্চিমআগানগর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, আদাবর, শেখেরটেক, লালবাগ, চকবাজার, কোতোয়ালী, ওয়ারী, সুত্রাপুর, ধানমন্ডী, জিগাতলা, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, রায়ের বাজার, মিরপুরের টোলারবাগ, পাইকপাড়া, প্রথম ও দ্বিতীয় কলোনী, ফার্মগেট, তেজকুণী পাড়া, নাখাল পাড়া, মুনিপুরী পাড়া, গ্রীনরোড, ইন্দিরারোড, রাজাবাজার, মগবাজার, মালিবাগ, মানিকনগর, সিদ্ধেশ্বরী, ইস্কাটন, শান্তিনগর, কাকরাইল, বেইলি রোড, পরিবাগ, শান্তিবাগ, মতিঝিল, আরামবাগ, শহীদবাগ, কমলাপুর, গোপীবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাও, বাসাবো, কদমতলা, গোড়ান, শনিরআখড়া, ধলপুর, গোলাপবাগ, ধনিয়া, শেওড়াপাড়া, কাজিপাড়া, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বারিধারা, বনানী, নিউডিএইচএস, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, কামরাঙ্গীরচর, শহীদনগর, ইসলামবাগ ও হাজারীবাগ।

উল্লেখিত স্পটগুলোর হোটেল, বাসাবাড়ী ও ফ্ল্যাটে চলছে জমজমাট দেহব্যবসা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের দ্বারা দেহ ব্যবসার মূল স্পটকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১-ধানমণ্ডি জোন,২-গুলশান-নিকেতন-বারিধারা-নতুন বাজার জোন, ৩-বনানি- নিউডিএইচএস, ৪-উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা।অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে পুলিশ বাহিনীকে “মেনেজ’’ করেই চলে এই ধরণের কাজ,মাঝে মাঝে তারাই থাকেন খদ্দর।