Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

সারাদেশ

অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন

অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন
অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন

সাইফুল ইসলাম রদ্র : নরসিংদীর রায়পুরায় কয়েক দিনে মেঘনার ক্রমাগত ভাঙনে চরমধুয়া ইউনিয়নের চরমধুয়া ও দরিহাটি গ্রাম দুটির অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।

গত বছরও এ ইউনিয়নে নদীভাঙনের শিকার হয় ১২০ ঘরবাড়ি। তা ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েক শ ঘরবাড়ি।

উপজেলার চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ভাঙনপ্রবণ ইউনিয়নগুলো হলো শ্রীনগর, চানপুর, মির্জাচর ও চরমধুয়া। এসব ইউনিয়নে গ্রাম রক্ষা বাঁধ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে মেঘনার প্রবল স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, হাট-বাজার, আবাদি জমি, কবরস্থান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

ইউনিয়নের বাসিন্দারা গ্রাম রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোতে উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে মেঘনার ভাঙনে ওই চার ইউনিয়নের অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পাশের গ্রামে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে। তা ছাড়া ভাঙন আতঙ্কে অনেকে আগেই ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কয়েকজন সদস্য বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি মেঘনা নদীর ভাঙনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা সরকারি কোনো ত্রাণসামগ্রী বা সহায়তা পাচ্ছি না।’

মেঘনার ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার চরাঞ্চলের মির্জাচর ইউনিয়নের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি বাজার, দুটি লঞ্চঘাট, ৯টি মসজিদ, একটি মন্দির ও তিনটি কবরস্থান। চানপুর ইউনিয়নে একটি লঞ্চঘাট, চানপুর ও কালিকাপুর গ্রাম। শ্রীনগর ইউনিয়নে পলাশতলী ও ফকিরেরচর গ্রামের একাংশ এবং চরমধুয়া ইউনিয়নে চরমধুয়া ও দরিহাটি গ্রাম।

গত এক দশকে চানপুরে ইমামদিরকান্দি ও শ্রীনগরের পলাশতলী গ্রাম দুটি নদীগর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। পলাশতলী গ্রামে এখনো কিছুসংখ্যক লোকের বসতি থাকলেও ইমামদিরকান্দি গ্রামটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। ইমামদিরকান্দি গ্রামে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তখন পাশের মহিনীপুর গ্রামে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গত বুধবার চরমধুয়ার নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন নরসিংদী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাহাব উদ্দিন আহমেদ ও রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক। এ ব্যাপারে চরমধুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সিকদার বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। বাঁধ নির্মাণের দাবিতে একালাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন করেছি। আশা করি, কর্তৃপক্ষ দ্রত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।’

এ ব্যাপারে প্রকৌশলী সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নিউজবিডি৭১/এম কে / ০২ জুলাই ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ

কালচার

সিলেটে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ডে লাইফ সিল্ক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা হাজির হয় সিলেটের...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান