ভিডিও-১

ভিডিও-২

মুজিব শতবর্ষেও ম্যাজিস্ট্রেড’র উপস্থিতিতে তার কক্ষেই সরকার দলীয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক অস্ত্রসহ হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের উপর হামলা! দুদকের কাছে প্রার্থনা রোমানের সম্পদের হিসাব নিলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের আকুল আবেদন প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

জাহিদুল ইসলাম রোমান বহুগুণে গুণান্বিত একজন ব্যক্তি। যার পদ-পদবীর বাহারে দৃষ্টি হতচকিত হয়ে যায়। যতই ডিগ্রি থাকুক দোকান খুললে তার ব্যবহারে প্রকাশ পায় স্বর্ণের দোকান নাকি কয়লার দোকান। চিনেনা, জানেনা, কোনদিন পরিচয় হয়নি, ঢাকা থেকে আগত সাংবাদিকদের বেদড়ক মারধর করে নিজেকে তাৎক্ষণিক সময়ে হিন্দি ফিল্মের ভিলেন অমরেশপুরির ভূমিকায় উপস্থাপন করে তিনি কি প্রমাণ করলেন!

তার বিরুদ্ধে তো কোন সংবাদ পত্রিকায় ছিল না, তাহলে কি সাংবাদিকদের মারধর প্রমাণ করে তিনি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। একাধারে জাহিদুল ইসলাম রোমান চেয়ারম্যান- ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, চাঁদপুর। সভাপতি- ব্যবস্থাপনা কমিটি, চাঁদপুর টেলিভিশন। সাবেক সভাপতি- জেলা ছাত্রলীগ, চাঁদপুর। পরিচালক- চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টিজ। সহ সভাপতি- চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আইনজীবী- জজকোর্ট, চাঁদপুর।

তার বাবা ছিলেন তখনকার আমলের জনপ্রিয় এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যার সুনাম গ্রাম ছাড়িয়ে পৌঁছেছিল শহরে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারিও ছিলেন তার পিতা এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম (এমপি)। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ক্লিন ইমেজের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৯ সালের ১১ ই অক্টোবর তিনি না ফেরার দেশে পারি জমান।

কিন্তু রোমান সাহেবের ব্যবহারে মনে হয়েছিল এ যেন আলেমের ঘরে জালেম। ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান বৃহত্তর চাঁদপুর সহ সম্পূর্ণ এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছে তার পেটুয়া বাহিনী দ্বারা, সহিংসতা করে মানুষকে ভয় দেখানো তার কাজ। তার কথা যে না শুনবে তাকে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে তার জীবন শেষ করে দিবে। কেউ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে রোমানের পেটুয়া বাহিনী তাকে মারধর করে। অনেক সময় গুম করে ফেলে। দীপু মনির আত্মীয় বলে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে রোমানের সন্ত্রাসী তান্ডব, টেন্ডার বাজি, দখল বাণিজ্য, মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় তার ব্যবসা বলে জানায় নাম না জানাতে ইচ্ছুক তার এলাকার ভুক্তভোগী কিছু লোক। তার অপকর্ম নিয়ে কেউ লেখার সাহস পায় না।

এ যাবৎকালে চাঁদপুর এবং ফরিদগঞ্জে রাজনৈতিক ভাবে যে সকল মানুষকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না তার পিছনে রোমানের আর তার পেটুয়া বাহিনীর হাত রয়েছে বলে জানা যায়। ইতিপূর্বে চাঁদপুরের ন্যায়পরায়ণ খ্যাত পুলিশ সুপার সামছুন নাহারকে অন্যত্র বদলি করার পিছনে রোমানের হাত ছিল বলে জানা যায়। সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও এখন অনেক ‘জনপ্রিয়’ নেতা আছেন। এই ‘জনপ্রিয়তা’র নানা কারণও আছে। কেউ কেউ আছেন, চুরি-চামারি করলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে থাকেন। নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করেন। কেউ বা আবার এলাকার টাউট-বাটপার-গুণ্ডা-বদমাশ নয়ন ভন্ড গুলোকে হাতে রাখেন। তাদের পিছনে নিয়মিত খরচও করেন। এলাকার মানুষ এসব জানলেও তাদের প্রতি এক ধরনের সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রশংসাও করেন। কারণ, প্রশংসা না করলে যদি তার লোকেরা ঠ্যাঙানি মারে! আবার এমন কিছু নেতাও আছেন যারা (লোক দেখানো হলেও) গরিবের কিছু উপকার করেন। গুণ্ডা বদমাশ নয়ন ভন্ড গুলোকে প্রকাশ্যে ধমক-ধামক দেন। আবার মনোরঞ্জন করে চলার চেষ্টাও করেন। এতেও তিনি জনপ্রিয়তার তকমা পান।

কিন্তু এলাকায় বা সমাজে একজন জনপ্রিয় নেতা যে সত্যিকার অর্থেই সৎ এবং ভালো মানুষ, যিনি জনকল্যাণে কাজ করেন, টাকার লোভ নেই এমন নেতা এবং নেতৃত্ব এখন চাঁদপুরের রাজনীতিতে বিরলই মনে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানী দল চাঁদপুরে পৌঁছালে প্রথমে যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। পুলিশ সুপার মহোদয় মিটিংয়ে থাকলে তার কার্যালয়ে পত্রিকা দিয়ে উপজেলা পরিষদের উদ্দেশ্যে গেলে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে তার অফিস কক্ষে অনুমতি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রবেশ করে তার টেবিলে পত্রিকা দেয়।

ঐ মুহুর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে কারো সাথে জরুরী কথা বলছিলেন। তার টেবিলের সামনে বসে থাকা ব্যক্তিদ্বয়ের হাতেও তুলে দেওয়া হয় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ। তার মধ্যে একজন পত্রিকাটি দেখলেন এবং রেগে গিয়ে চোখ-মুখ লাল করে চেচিয়ে বললো, সব হলুদ সাংবাদিক, এখান থেকে বের হ কুত্তার বাচ্চারা, না হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো। সাংবাদিকদের সদোত্তর আমরা আপনাদের এলাকায় মেহমান হয়ে এসেছি এবং আমরা একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আপনি আমাদের সাথে এরকম খারাপ ব্যবহার করতে পারেন না। তাছাড়া আমরা তো আপনার কাছে আসিনি। এসেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তখন তিনি এবং তার সাথে থাকা সঙ্গীরা মারমুখী হয়ে অনেকটা তেড়ে এসে জানালো কার সাথে কথা বলছো তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান।

উপজেলা চেয়ারম্যান বললো আমার সাথে তর্ক করছোস আমি কে কিছুক্ষণের মধ্যেই টের পাবি। এ কথা বলে উপজেলা চেয়ারম্যান তার আথিতিয়তার জন্য যে মিষ্টি এবং কাটা পেয়ারা এনেছিল তা না খেয়েই তিনি প্রস্থান করেন। আমরাও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য নিজেদের কোন প্রকার দোষ না থাকার পরেও তার নিকট দুঃখ প্রকাশ করে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে উপজেলা চত্ত্বরের সামনে আসলে, ওঁৎ পেতে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তার বাহিনী সাংবাদিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র সহ অতর্কিত হামলা চালায়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, সেই সাথে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে আহত করে।

সাংবাদিকরা রাস্তায় পড়ে গেলে সেখানেও তার বাহিনী ইচ্ছে মতো মাথা থেকে শুরু করে সর্বশরীরে আঘাত করে এবং সাংবাদিককে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গেঞ্জি দিয়ে গলা পেচিয়ে ধরে। তাদের কোমরে ছিল পিস্তল, একজন বলছিল পায়ে গুলি কর, ঐ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা তার দপ্তরে কর্মরত কেউ সাংবাদিকদের বাঁচাতে আসেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপর থেকে বিষয়টি দেখে পুলিশে খবর দিলে এবং ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশকে জানালে সাংবাদিকদের বাঁচাতে মাত্র তিনজন পুলিশ আসে। এই তিন পুলিশ সাংবাদিকদের বাঁচাবার চেষ্টা করলেও উল্টো পুলিশ সহ সাংবাদিকদের উপর আঘাত অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ ভাইয়েরা সাংবাদিক দুইজনকে একটি অটো গাড়ীতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে থানার অফিসার ইনচার্জ এবং একজন এডিশনাল পুলিশ সুপার এবং কিছু পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অপরাধের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলে, সেখান থেকে প্রস্থান করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান রোমানের সাথে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে তিনি এবং তার লোকেরা সাংবাদিকদের গায়ে হাত দিবে। সামান্য কথায় এমন অহংকার আর দাম্ভিকতায় উপজেলা চেয়ারম্যান বলছিল তোদেরকে জানে মেরে ফেললেও কিছু হবেনা। তার লোকজন বলছিল রোমান ভাইয়ের ক্ষমতা সম্পর্কে তোমাদের কোন ধারণা নেই। একজন জনপ্রতিনিধি সমাজের বন্ধু জাতির ভরসার স্থল। যেকোন মানুষ তার নিকট আসলে সে থাকবে বিপদ মুক্ত কিন্তু তার এরকম পৈশাচিক আচরণ দেখে মনে হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই রাজনীতি কি শিক্ষা দিয়েছিলেন নাকি তিনি ছিলেন বিশাল মহৎ মনের অধিকারী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নয়নের সোপানে দিন-রাত খেঁটে চলছেন বাংলাদেশের উন্নয়নে বাঙ্গালি এবং তার সংস্কৃতির মূল ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে। তাঁর যে সব একনিষ্ঠ কর্মী তার আদর্শকে বুঁকে ধারণ করে সমাজের সেবা করবে তারা থাকবে উদার, তাদের ব্যবহার থাকবে অমায়িক।

কিন্তু জাহিদুল ইসলাম রোমানের ব্যবহার তার এলাকায় আসা কিছু সাংবাদিকের সাথে এমন জঘন্য ছিল যা বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে আঘাত করেছে।

কারণ এই মাফিয়া ষ্টাইলে চলা লোক গুলো এরকম জনপ্রতিনিধি গুলো প্রতিনিয়ত এই মহান ব্যক্তি অর্থাৎ জাতির জনকের আদর্শে বিশ্বাসী এই মিথ্যা বুলি দিয়ে প্রতিনিয়ত জাতির সাথে বেঈমানি করে আসছে। তাই জাহিদুল ইসলাম রোমান এবং তার পেটুয়া বাহিনীর শাস্তি চায় আহত মিডিয়াকর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে এই সন্ত্রাসীদের বহিষ্কার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে সোপানে তার কুসুম বাগানে কোন মাফিয়া, সন্ত্রাসীদের জায়গা নেই। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক বান্ধব জননেত্রীর কর্মী বিশিষ্ট্যজনদের মতে জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকীতেও ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ের দাপটে জাতির জনকের পেশা সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত সাংবাদিকতা আর গণমাধ্যমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়। কিন্তু এই রূপ হামলা করে গণমাধ্যমের লেখা বন্ধ করা যাবে না।