ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবাদী জমি খননের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে যমুনা চরাঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকরা। গতকাল সকালে ভূঞাপুর উপজেলা চত্তরে এ মানবন্ধন শেষে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, যমুনা নদীর প্রবাহকে একটি ধারার বহমান রাখার লক্ষে নদী খনন প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কোন প্রকার নোটিশ বা অধিগ্রহণ ছাড়াই উপজেলার ভরুয়া গ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ফসলি জমির উপর দিয়ে খননের জন্য লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করলে বাঁধা দেয় এলাকাবাসী। দফায় দফায় মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও তা উপেক্ষ করে ৮টি প্যাকেজে প্রায় ২০টি ড্রেজার ও শতাধিক বাংলা ড্রেজার বসিয়ে খনন শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাধ্য হয়ে উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান খানসহ ১২জন বাদি হয়ে হাইকোর্টের রিটপিটিশন করেন। সেটি আমলে নিয়ে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭/০১/০২০২১ তারিখে ভূঞাপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেন।

প্রতিবেদনে সুস্পুষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যে সকল ভূমিতে ড্রেজার বসিয়ে খনন করা হচ্ছে তা জনগণের রেকডিও আবাদী ভূমি। যার প্রেক্ষিতে গত ৪মার্চ বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও মো. কামরুল হোসেন মোল্লাহ যৌথ বেঞ্চ এসব রেকডিও সম্পত্তিতে খনন কাজ স্থগিতাদেশ দেন।

এদিকে উচ্চ আদালতের স্থকিতাদেশ উপেক্ষা করে খনন কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে এলাকার ক্ষুব্ধকৃষকরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনে বক্তরা আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ড্রেজার বন্ধ না করলে আমরণ অনশনে বসবে বলে হুশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান খান, অধ্যক্ষ আবদুস সাত্তার খান, মো. মোফাজ্জল হোসেন সরকার, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকোশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, হাইকোর্টের আদেশের কপি পেয়েছি। দ্রুতই খনন কাজ বন্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইসরাত জাহান জানান, হাইকোর্টের রায়ের কোন নির্দেশনা পাইনি। পেলে ব্যাবস্থা নিবো।