Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

সারাদেশ

আম্পানের আঘাতে শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা

আম্পানের আঘাতে শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা
আম্পানের আঘাতে শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা

সাতক্ষীরা : সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার গোটা উপকূল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ। ঢেউয়ের তাণ্ডবে উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ।

সাগরপাড়ে সুন্দরবনের কোলে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউপি। পশ্চিমে কপোতাক্ষ নদ আর পূর্বে খোলপেটুয়া নদীবেষ্টিত এ ইউপি সবুজে সবুজময়। ছোট ছোট গ্রামগুলো ছবির মতো। ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় এ গ্রামে ২০ মে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্পান।

সেই আঘাতের জের ওঠেনি এখনো। আম্পানের আঘাতে গোটা ইউপি যেনো ধ্বংসস্তুপ। বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত। নোনা পানির প্রভাবে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে গাছপালা। অনেক গাছ এখন মরতে শুরু করেছে। গাছের মূলে বালু জমে ও লবণ পানিতে বিবর্ণ হয়ে গেছে গাছের কাণ্ড ও পাতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজ প্রকৃতিতে ঘেরা ঠিক যেন ছবির মতো সাজানো গোছানো ছিল প্রতাপনগর, আনুলিয়া, শ্রীউলাসহ আশাশুনির ১১টি ইউপি। গাছ ঘেরা ইউপিগুলো যেন প্রকৃতির সবুজ দেয়াল।

আম্পানের ঝড়ের তাণ্ডবে গেই প্রকৃতির সবুজ দেয়াল এখন বিলীন হয়ে গেছে। যে কয়টি গাছ উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাও মরতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম্পানের দীর্ঘ সময় ধরে চলা ঝড়ো বাতাস ও সামুদ্রিক লবণ পানির স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে গাছের শ্বাসমূল শোষণ করায় গাছগুলো মরে যাচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রের প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনাঞ্চল। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র তাণ্ডব থেকে এই বন উপকূলকে রক্ষা করেছে। সেই দুর্যোগে বড় ধরণের ক্ষতির শিকার হয়েছিল বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। বনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বন্যপ্রাণির ক্ষতি হয়েছে অনেক।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, এলাকা রক্ষায় দেয়াল হিসেবে কাজ করেছে বনাঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বন ও সবুজ বেষ্টনি। এখন গেই বন নেই। সেই গাছপালা নেই। নেই সেই সবুজের সমারোহ।

এদিকে পরিবেশবিদরা বলেছেন, বন ও বনের গাছ পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে যেভাবে বন ও সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস হচ্ছে, এর ফলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে মানুষের ওপর।

সাগরের নোনা জলের প্রভাবে কৃষিতে প্রভাব পড়ছে। গ্রামগুলো পানিতে ডুবে থাকায় আবর্জনা পচে দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পচা পানির কামড়ে গায়ে চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। সুপেয় পানির অভাব প্রকট।

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, ইউপিতে মোট জনসংখ্যা ৩৫ হাজার ৭৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ৫৫৫ জন এবং নারী ১৭ হাজার ২০০ জন। শিশু রয়েছে ৮ হাজার ১৩৩ জন। পরিবারের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৫০টি।

কৃষি জমির পরিমাণ ৮৭৫ হেক্টর। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৮০০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য প্রকল্পের পরিমাণ ১৯২০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৫টি। রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে ৪০ কিলোমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার। কৃষি ও মৎস্য সম্পদের সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পোল্ট্রি ফার্মের ক্ষয়ক্ষতি ৯৯ শতাংশ। আম্পানের প্রভাবে এরই মধ্যে গাছপালা মরতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আইলার পর থেকে মাটিতে শক্তি কমে গেছে। মাটির গঠন পরিবর্তন হয়ে আঠালোভাব আর নেই। ফলে বেড়িবাঁধ টেকসই হয় না। বেড়িবাঁধের গা ঘেষে মাছের ঘের করার কারণেও বাঁধ ও সড়ক নষ্ট হচ্ছে।
তাই বেড়িবাঁধ থেকে কমপক্ষে ১০০ ফুট দূরে টেকসই রিং বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করার জন্য তিনি দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, চাকলা, কুড়িকাহুনিয়া,হিজলিয়া কোলা ও হরিষখালি বেড়িবাঁধ কবে হবে তার কোনো কিছুই আন্দাজ করতে পারছি না।

জোয়ার-ভাটার মধ্যে ডুবছি আর ভাসছি। আর কতদিন এভাবে ভাসতে হবে আর ডুবতে হবে তা অজানা। আমরা আর ভাসতে চাইনা। আর ডুবতে চাই না। টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই।

আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন বলেন,আদি বিছট গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিছট, নয়াখালি, কাকবাশিয়া ও মনিপুরি গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষতি হয় বাঁধ ভেঙে। শতশত পরিবার পানিবন্দী। নোনা পানির প্রভাবে মরে যাচ্ছে গাছপালা।

তিনি আরো বলেন, বাঁধ বাঁধলেই হবে না, বাঁধ রক্ষা কমিটিও করতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে সম্পৃক্ত করে বাঁধরক্ষা কমিটিকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্লক সিস্টেমে নিচ থেকে ডাম্পিং করতে পারলে বাঁধ টেকসই হবে বলে তিনি মনে করেন।

নিউজবিডি৭১/এম কে / ২৭ জুন ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ

কালচার

সিলেটে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ডে লাইফ সিল্ক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা হাজির হয় সিলেটের...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান