Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

বাণিজ্য

ইলিশের উৎপাদন ২০ থেকে ৪০ টন করে বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক : সপ্তাহ দুয়েক ধরে সাগরে ইলিশ কম ধ’রা পড়ছে। এ জন্য চলতি মাসে তিন-তিনটি ল’ঘুচা’পকে দা’য়ী করেছেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিশেষ’জ্ঞরা। তবে সাগর শান্ত হলে আগামী মাসের মাঝামাঝি নাগাদ ইলিশ পাওয়া নিয়ে আশাবাদী তাঁরা। আশার কথা আরও আছে। এ বছর ইলিশের গড় ওজন বেড়ে ১ কেজি ছুঁ’ই ছুঁ’ই বলে জানালেন মৎস্যবিজ্ঞানীরা।
সাগরে মাছ ধ’রার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। তা-ও প্রায় এক মাসের বেশি হলো। গত ২৪ জুলাই থেকে জেলেরা সাগরে মাছ ধ’রার সুযোগ পাওয়ার পর প্রথম দুই সপ্তাহ ইলিশ ভালোই ধ’রা পড়ছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে সাগর-নদীতে যেন ইলিশের আ’কাল পড়েছে। গতকাল শনিবার বরগুনা ট্রলার ও মৎস্য সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে কথাগুলো বললেন। তবে এবার ইলিশ পাওয়া নিয়ে খুব বেশি হতাশও নন তিনি। তাঁর মতে, সাগর শান্ত হলে ইলিশ বাড়তে পারে। গত বছর এই সময় ইলিশ কম ছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইলিশ ধ’রা বেড়ে যায়।

বরিশাল ইলিশ পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশরাফ আলীও বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, এখন আর ইলিশের নির্দিষ্ট কোনো মৌসুম নেই। সারা বছরই এখন মাছের এই রাজাকে নদী-সাগরে পাওয়া যায়। আকার আর ওজনেও ইলিশ এখন বেশ তাগড়া।
এই দুই ব্যবসায়ীর কথার সঙ্গে বিজ্ঞানী ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কথাও মিলে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দুই সপ্তাহ ধরে ইলিশ না পাওয়া নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা সাময়িক। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নদী ও সাগরে ইলিশ আসার পরিমাণ বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্যসম্পদবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। উপকূলে ৩ নম্বর ও নদীগুলোয় ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রায় মাসজুড়েই ছিল। তাই জেলেরা সাগরে যেতেও সাহস পাননি। আর ইলিশও গভীর সাগর থেকে উপকূলের দিকে আসেনি।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশ থেকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের ইলিশের ওজন ও আকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে দেশের ইলিশের গড় ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম বেড়েছে। পাঁচ বছর আগে ধ’রা পড়া ইলিশের অর্ধেকই ছিল ছোট ও মাঝারি আকৃতির। আর বড় ইলিশ পাওয়া যেত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। চলতি বছর এ পর্যন্ত ধ’রা পড়া ইলিশের ৭০ শতাংশের ওজন ৫৫০ থেকে ১ হাজার ২৫০ গ্রাম। এর মধ্যে ৫৫০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ হচ্ছে ৫৫ শতাংশ এবং ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ১৫ শতাংশ। গত বছর ইলিশের গড় ওজন ছিল ৮৭০ গ্রাম। এবার তা ৯১৫ গ্রামে দাঁড়িয়েছে।
ওজন ও আকৃতি বেড়ে যাওয়ায় দেশে ইলিশের মোট উৎপাদনও বেড়ে গেছে। গত এক যুগে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রতি বছরই ইলিশের উৎপাদন ২০ থেকে ৪০ টন করে বাড়ছে। গত বছর ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার টন। এ বছর তা ছয় লাখ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখছে মৎস্য অধিদপ্তর।

নিউজবিডি৭১/ এম কে / ৩০ আগস্ট ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

গত দুই মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ৷ তবে এবারের বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে৷ সিলেটে কেন এত ঘন ঘন বন্যা? গবেষকরা বলছেন,...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান