Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

লিড

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, সংকটে জেলে জীবন

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, সংকটে জেলে জীবন
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, সংকটে জেলে জীবন

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) : মাছ ধরা বন্ধ এবং করোনা পরিস্থিতিতে বিকল্প কাজ না থাকায় দুর্দিন যাচ্ছে। সংসারের খরচাপাতি, মহাজনের দাদনের টাকা শোধ নিয়ে বেশ দুচিন্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে। যে কারণে অনেকের চুলায় এখন আগুনও জ্বলছে না। রুজি করতে না পারায় ঘরেই বসে থাকতে হচ্ছে। এমনই পরিস্থিতির মুখোমুখি এখন বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলেরা।

একদিকে মাছ শিকার বন্ধ, অন্যদিকে করোনার কারণে বিকল্প কাজও নেই। এ কারণে সাগর উপকূলের জেলেদের চরম দুর্দিন কাটাচ্ছে।

মৎস বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর সমুদ্রে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সংসারিক ব্যায়ভার বহন ও মহাজনের কাছ থেকে আনা দাদনের টাকা শোধ নিয়ে দুচিন্তায় পরেছেন জেলেরা। আয় রোজগারের পথ বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘদিন বেকার সময় কাটাতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে শত শত জেলে হাহাকার করছেন।

মৎস বিভাগসূত্রে জানা যায়, দেশের মৎসসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর সমুদ্রে সব ধরণের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিনের অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বর্তমানে সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে।

জেলেরা জানান, সরকারী নিষেধাজ্ঞার কারণে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না তারা। এদিকে করোনার কারণে গ্রামেও অন্য কোনো কাজ নেই। বিগত বছরগুলোতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেরা সমুদ্র থেকে উঠে এসে এলাকায় দিনমুজুরা বা অন্য কোনো কাজ করে সংসার চালাতো। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে কোনো কাজ পাওয়া যাচ্ছে না।ঘরে বসেই বেকার সময় পার করতে হচ্ছে জেলেদের। সংসারে ব্যায় ভারের একমাত্র মাধ্যম ছিল জেলে পেশা। এখন বিকল্প কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বিপাকে পরেছেন তারা।

জেলেরা আরো জানান, সরকার মৎস আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য যে প্রণোদনা দেন তা খুবই সামান্য। এর মধ্যে আবার যেসব জেলেদের নিবন্ধন তালিকায় নাম নেই কিন্তু সমুদ্রগামী প্রকৃত জেলে,সরকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত জেলে।

কোড়ালিয়ার জেলে বশির প্যাদা বলেন,‘আমরা ইলিশ শিকারী জেলে।বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারই আমাদের পেশা। বছরে তিন-চার বার মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। এর মধ্যে আবারো যোগ হয়েছে করোনা ও লকডাউন। এ বছর সাগরে ভালো করে এক মাসও মাছ ধরতে যাইতে পারি নাই। তাহলে আমাগো পুরা বছরের সংসার কীভাবে চালামু। সরকার যে সহায়তা দেয় তাতে সংসার চলে না। আমি দেনা করে বোট করছি এখন খুবি টেনশনে আছি। কী দিয়া দেনা দিমু, কী দিয়া সংসার চালামু আর কী দিয়া ছেলে-মেয়েদের লেখাপাড়া করামু।

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস কর্মকতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, মৎস সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমুদ্রে সব ধরণের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে সমুদ্রে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার খাদ্য সহায়তা হিসেবে নিবন্ধিত প্রতি জেলেকে দুই ধাপে ৮৬ কেজি করে চাল দেয়। এছাড়াও সমুদ্রগামী যেসব জেলে নিবন্ধিত তালিকায় নেই, তাদের নতুন করে তালিকাভুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

নিউজবিডি৭১/এম কে / ১৯ জুন ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ

কালচার

সিলেটে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ডে লাইফ সিল্ক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা হাজির হয় সিলেটের...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান