Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

বিবিধ

কবিরাজ মোজ্জামেল হকের চিকিৎসার নামে ভন্ডামি!

শাহাদাৎ হোসেন (ইমরান): বছরের পর বছর কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে হাজী মোঃ কবিরাজ মোজ্জামেল হকের। তিনি সর্ব রোগের চিকিৎসক বলেও জানা যায়। কবিরাজ বাড়ি সাত তলা এই পুরো বাড়িতেই চলে তার ভন্ডামি। যে বাড়িটি গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ীতে অবস্থিত।

নারী ও পুরুষের যে কোন সমস্যা ১০০%গ্যারান্টি সহকারে সু চিকিৎসার নামে দেয়া হয় অপচিকিৎসা। চিকিৎসায় প্রতারণার দায়ে কিছু দিন আগে পুলিশের হাতে আটক হন ভন্ড কবিরাজ মোজ্জামেল হক । এর পরও থেমে নেই তার প্রতারণা।

আর্কষনীয় ও চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে দেশের ভিবিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন কবিরাজি চিকিৎসায়।

নিউজবিডি৭১ অনুসন্ধানে জানা যায়,পাইলস,ক্যান্সার,দুরারোগ্য রোগ,মানুষিক সমস্যা,পারিবারিক সমস্যা,জমি সংক্রান্ত বিষয় সহ সকল রোগের চিকিৎসা পাথর ও ভিবিন্ন ঔষধ এর মাধ্যমে সমাধান করে থাকেন কবিরাজ মোজ্জামেল হক । কয়েকজন হাকিম এর মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন করে থাকেন তিনি।সাত তলা বাড়িটির ঢুকতেই চোখে পড়ে সাদা পোষাকে দুইজন লোক।তাদের কাজ হচ্ছে রোগিকে ২য় তলা অফিসে নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় তলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে আরো ১৫-২০ জন সাদা পোষাকের নিজস্ব বাহিনী।যারা সবাই এখানে কবিরাজ মোজ্জামেল হকের সাঙ্গোপাঙ্গ । সাজানো গুছানো পরিপাটি পুরো অফিস জুড়ে প্রতারণার ফাঁদ । তৃতীয় তলা বসেন কবিরাজ মোজাম্মেল হক।তার কক্ষে ঢুকতেই গাজীপুরের ভিবিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে ছবি চোখে পড়ে।রোগীদেরকে এসব ব্যাক্তিরা তাকে চেনেন বলে চিকিৎসা নিতে আর্কষণ বাড়িয়ে তুলেন।অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ছবিই মূল হাতিয়ার। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ভাঙ্গানো অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

ভিবিন্ন ঔষধ ও পাথর উচ্চমূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ ভুরি ভুরি তার বিরূদ্ধে। ব্যবসায়ে লাভ,স্বামি স্ত্রীর সমস্যা,জমি নিয়ে বিরোধের সমস্যা,আর্থিক সমস্যা,ক্যান্সার সহ জটিল সকল সমস্যা পাথরের মাধ্যমে সমাধান করে থাকেন তিনি। এই ভন্ডামীর মাধ্যমে কয়েক বছরেই বনে যান কোটি কোটি টাকার মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,প্রতারণার টাকা দিয়ে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন কবিরাজ বাড়ি প্রাঃ লিঃ নামে একটি ভন্ড প্রতিষ্ঠান । যার মধ্যে রয়েছে,মোজ্জামেল এন্টারপ্রাইজ, লাইজু এন্টারপ্রাইজ, ডায়মন্ড এন্টারপ্রাইজ,ডায়মন্ড ওয়ার্কশপ এন্ড ওয়াশ সেন্টার ।

যেভাবে প্রতারণা করেন তিনি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া ভাড়া করা লোকদের দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে প্রচারের মাধ্যমে গ্রামের সহজ সরল অসহায় মানুষদের টার্গেট করেন তিনি। পুরো বাংলাদেশে তাদের এজেন্ট আছে বলেও জানা যায়। সকল রোগের চিকিৎসা এখানে করা হয় বিধায় মানুষ প্রলোভিত হয়ে আসে কবিরাজ বাড়ি।ঔষধ ও পাথরের দাম বেশি হওয়ায় কিস্তিতে কবিরাজি উপকরণ দিয়ে থাকেন । দুই তিন জন হাকিম ছাড়া কোন জ্যোতিষীর দেখা যায় না । শত ভাগ রোগ নির্নয়ের নিশ্চয়তা দেয়া হয় এখানে।চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন না করে কবিরাজ বাড়ির চিকিৎসা নিতে বলেন প্রতারক হাজী মোঃ মোজ্জামেল হক।

ময়মনসিংহ থেকে আসা আশিক জানায়,পাথর নিলে চাকরি হবে বিজ্ঞাপন দেখে ৫৫ হাজার টাকর বিনিময়ে দুটি পাথর নেই।তাতে কাজ না হলে টাকা ফেরত চাইতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের দিলে জীবনের ভয়ে চলে আসি।

সফিক নামে একজন বলেন,বাবার ক্যান্সার কবিরাজ বাড়ি আসলে কিছু ঔষধ ও পাথর দেয়।বাবার কোন উন্নতি হয় নাই।টাকা ফেরত চাইলে পরে যোগাযোগ করেতে বলে পরবর্তীতে আর ফোন ধরে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ভুক্তভোগী জানান,বিজ্ঞাপন দেখে কবিরাজ বাড়ি যাওয়া হয় । পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য দুটি পাথর দেয়।কোন রকম সুরাহা না হওয়ায় পাথর গুলো ফেলে দেই।আমাদের এলাকায় আরও কয়েকজন কবিরাজ বাড়ি থেকে প্রতারিত হয়েছেন।

এলাকাবাসি জানায়,উচ্চমূল্যে ঔষধ বিক্রি করে কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সব রোগের চিকিৎসা হলে আমরা এলাকাবাসি কেন হাসপাতালে যাই।গ্রামের সহজ সরল লোকদের টার্গেট করেন তিনি।কোন রোগি রিক্সা যোগে কবিরাজ বাড়ি আসলে কমিশন পায় রিক্স।

স্হানীয় ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন,চিকিৎসা সেবায় প্রতারণা করায় কিছু দিন আগে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেঁটে বের হন তিনি।ওনার ঔষধ খেলে শুধু মাত্র পেট ভরা ছাড়া কোন কাজ হয় না।আমি ও স্হানীয় মুরব্বিরা তাকে অনেকবার সতর্ক করেছি। কবিরাজ বাড়ির বিজ্জাপন দেখে প্রতারণার স্বীকার না হওয়ার জন্য আহব্বান জানান তিনি।

আওয়ামীলীগের সাথে রাজনীতিতে জড়িত গাজীপুরের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাংঙ্গিয়ে প্রতারণা গুলো আড়াল করে রাখেন দিনের পর দিন।কয়েক বছর ধরে নামের আগে কবিরাজ হাজী শেখ মোঃ মোজ্জামেল হক ব্যবহার করে শেখ বংশের পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এড্যাঃআজমত উল্লাহ খান বলেন,কবিরাজ দলের রাজনীতির সাথে জড়িত বিভিন্ন পগ্রামে উপস্হিত থাকে।নামের আগে শেখ ব্যবহার করে এটা আমার জানা নেই।

কবিরাজ মোঃ মোজ্জামেল হকের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায় নাই।তবে তার ছেলে রাজু এহসান জানান,আমরা শেখ বংশের লোক।বর্তমানে বাবা অফিসে বসে না,হেকিম রেখে চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে কোনাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সিদ্দিক বলেন,একন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি।কেউ প্রতারিত হলে লিখিত অভিযোগর ভিত্তিতে প্রয়োজনে মামলা ও নিতে প্রস্তুত আছে কোনাবাড়ি থানা পুলিশ।

সচেতন মহলের দাবি এই ভন্ড কবিরাজের কারিশমা বন্ধ না করলে নিঃশেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।

 

 

এম কে

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

গত দুই মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ৷ তবে এবারের বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে৷ সিলেটে কেন এত ঘন ঘন বন্যা? গবেষকরা বলছেন,...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান