Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

লিড

জীবাণুনাশক টানেল বিপদের আশঙ্কা

জীবাণুনাশক টানেল বিপদের আশঙ্কা
জীবাণুনাশক টানেল বিপদের আশঙ্কা

ঢাকা : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের সব সরকারি অফিসে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপনের সুপারিশ করেছে। তবে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপনে উল্টো স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গত মঙ্গলবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সংক্রান্ত কিছু নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। যেখানে সরকারি অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করার সুপারিশ করা হয়।

অথচ ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশের সব জেলার সিভিল সার্জনের উদ্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা এক নির্দেশনায় জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার করে শরীরে সরাসরি জীবাণুনাশক ছিটানো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান জানান, এই ধরনের টানেলের কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বিমত থাকায় কর্তৃপক্ষ দুই দফায় দু’রকম নির্দেশনা দিয়েছে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিক মানুষের ত্বক, চোখ, মুখে পড়লে ক্ষতি হতে পারে। তবে তার এক মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার করার বিপরীতধর্মী পরামর্শে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

‘টানেলের কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতের পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টানেল স্থাপন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিলেও পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে অফিসে টানেল স্থাপন করা বাধ্যতামূলক নয়, কর্তৃপক্ষ চাইলে টানেল স্থাপন করতে পারে।’

তিনি জানান,অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে কিছু সরকারি অফিস এ ধরনের টানেল স্থাপন করেছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে অনেক অফিসই টানেল বসানো থেকে বিরত থেকেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করার পর গত কয়েকদিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি থানার প্রবেশপথে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগেও জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশের উদ্যোগে তৈরি করা জীবাণুনাশক হিসেবে টানেলে রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্লিচিং পাউডারের দ্রবণ ও ৩ শতাংশ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড সলিউশন।

কিন্তু ব্লিচিং পাউডার জীবাণুনাশক হিসেবে কার্যকর হলেও তা সরাসরি মানুষের শরীরের সংস্পর্শে এলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়া বলেন, এই ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে স্বল্পমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন,‘চামড়ায় জ্বালাপোড়া, ত্বকের বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে শুরু করে চোখের সমস্যা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হতে পারে এই ধরনের কেমিক্যালের সংস্পর্শে এলে। দীর্ঘদিন ধরে বারবার সংস্পর্শে আসতে থাকলে আরও জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে।’

টানেল ব্যবহারে ‘উল্টো বিপদের’আশঙ্কা

বাংলাদেশের বাস্তবতায় জীবাণুনাশক টানেলের ধারণা বাস্তবায়ন করতে গেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধুরী।

বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতার সমালোচনা করে লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘একজন মানুষ শপিং মলে গিয়ে অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসার পর বের হওয়ার সময় টানেলের মধ্যে দিয়ে বের হয়ে এসে নিজেকে জীবাণুমুক্ত মনে করতে পারেন, যেটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা এবং এর ফলে উল্টো বিপদ তৈরি হতে পারে।’

তার ওপর ব্লিচিং পাউডার ও হাইড্রোজেন পার অক্সাইড সলিউশন দিয়ে তৈরি রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের টানেল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত না হওয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্টো ক্ষতিকর বলে মনে করেন লেনিন চৌধুরী।

এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে এসব রাসায়নিক মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ১৬ মে ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ

কালচার

সিলেটে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ডে লাইফ সিল্ক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা হাজির হয় সিলেটের...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান