গাজীপুরের টঙ্গীতে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এরশাদনগর বাস স্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে নিপ্পন নামক স্বনামধন্য একটি গার্মেন্টস কারখানার জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে জুট ব্যবসায়ী সাজ্জাদুল ইসলাম মনিরের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী শিল্পী আক্তার পৃথক দুটি অভিযোগ ও সাধারন ডায়েরী করেছেন।

জুট ব্যবসায়ী মনিরের স্ত্রী শিল্পী সাংবাদিকদের জানান, আমার স্বামী সাজ্জাদুল ইসলাম মনির দীর্ঘদিন যাবত নিপ্পন গার্মেন্টস এ চুক্তিভিক্তিক বর্জিত মালামালের ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু গত ২৮মার্চ হেফাজতের হরতাল চলাকালে টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, ৪৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন জয়, ছাত্রলীগ নেতা মনির সরদার ও রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ৩০/৪০জন নেতাকর্মী মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে নিপ্পন গার্মেন্টসে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা গার্মেন্টসের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকারের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার স্বামীকে বর্জিত মাল যেন না দেওয়া হয় চাপ সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) আমার স্বামী কারখানার সামনে গেলে উল্লেখিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আমার স্বামীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমার স্বামী চাঁদা দিতে আস্বিকৃতি জানালে গুম খুনের ভয়ভীতি ও ব্যবসা দখলের হুমকি দেয়। এর আগে গত ৪ মার্চ দত্তপাড়া লেদু মোল্লা রোডে আমার স্বামীকে পথরোধ করে খুন জখমের হুমকি দেয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল ও মনির। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে যাহার নাম্বার-২৩৫। তাদের হুমকি-ধমকিতে আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম মনির জানান, গার্মেন্টস পক্ষের সাথে আমি দীর্ঘ প্রায় ১০-১২ বছর যাবত সুন্দর ভাবে ব্যাবসা করে আসছি। কখনো কারোও সাথে ব্যবসায়ীক কোন সমস্যা হয়নি। অথচ ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম, জুয়েল হোসেন জয়, তাদের সন্ত্রাসী মনোভাব নিয়ে দীর্ঘ এক মাস যাবত গার্মেন্টসের মালামাল জোর পূর্বক নেওয়ার লক্ষ্যে আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবী করছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কের সাথে বসবাস করছি। যে কোন সময় এদের দ্বারা আমার পরিবারে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

ঘটনার বিষয়ে নিপ্পন গার্মেন্টসের কমপ্লাইন্স ম্যানেজার শাহবুদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সাজ্জাদুল ইসলাম মনির দীর্ঘদিন যাবত আমাদের ফ্যাক্টরীর মালামাল ক্রয় করছেন আর এখনোও করছেন। তবে কিছুদিন যাবত ছাত্রলীগের নেতা রেজাউল করিম, জুয়েল হোসেন জয়, মনির সরদার ও রাসেলসহ অনেকে অ-নৈতিক ভাবে মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করছে। হেফাজতের আন্দোলনের দিনে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলযোগে ফ্যাক্টরীতে এসেছিল।

এ বিষয়ে টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গত ২৭ মার্চ হরতাল বিরুধী মিছিল চলাকালীন আমরা পানি খাওয়ার জন্য গার্মেন্টের গেটে যাই।

এ ব্যাপারে ৪৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হোসেন জয় জানান, ফ্যাক্টরী মালিক মনিরকে আর বর্জিত মালামাল দিবে না। মালিকের সাথে আমাদের মালামাল সংক্রান্ত চুক্তিপত্র প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি। এবিষয়ে মনিরের স্ত্রী শিল্পী আক্তারের লিখিত অভিযোগ করেছেন। গার্মেন্টস পক্ষ থেকে যাদের মালামাল দিবে তারাই এখান থেকে মালামাল নিতে পারবে। কেউ কোন প্রকার শক্তি বা প্রভাব খাটিয়ে এখান থেকে মালামাল নিতে পারবে না।কেউ কোন প্রকার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।