Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

সারাদেশ

ডিএনডিতে পানি বন্দি ২০লাখ মানুষ

ডিএনডিতে পানি বন্দি ২০লাখ মানুষ
ডিএনডিতে পানি বন্দি ২০লাখ মানুষ

মোঃ সাজেদুর রহমান ,নারায়ণগঞ্জ : বিগত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ডুবে আছেন ডিএনডি এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ। পানিবন্দি হয়ে এই সাময়িক দূর্ভোগের কারণে জনগনের কাছে ক্ষমা চেয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলবেলা নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে জলাবদ্ধতা কবলিত বিভিন্ন এলাকাসহ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ ডিএনডি পাম্প হাউস পরিদর্শন করার সময় এই আশ্বাস দেন তিনি। এসময় শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি পাম্প চালু করে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করে প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা সংস্থা সেনাবাহিনী।

এসময় প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার্স মেজর কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, মেজর মুসতাকীম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নাসিক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাছান, নাসিক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনের বর্ষনে নিদারুন দুর্ভোগে পরেন ডিএনডি’র অভ্যন্তরে বসবাস করা প্রায় ২০লাখ বাসিন্দা। শুক্রবার বিষয়টি সরজমিনে তদারকি করতে এসে স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান গণমাধ্যমকে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই জলাবদ্ধতা নিরসন করতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ পানি-সম্পদ মন্ত্রনালয় এবং ডিএনডি উন্নয়ন পকল্পের দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন তিনি।

শামীম ওসমান জানান, প্রকল্পটি শেষ করতে আরো প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকার প্রয়োজন। আর্থিক বরাদ্ধের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও তিনি আলোচনাও করেছেন। বরাদ্ধের ব্যবস্থা হয়ে গেলে সেনাবাহিনী এই প্রকল্পটিকে হাতির ঝিলের চেয়েও মনোমুগ্ধকর অবস্থায় পরিনত করবে। এতে ডিএনডির বিশ লাখ বাসিন্দা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শামীম ওসমান আরো বলেন, ডিএনডির ভেতর ২০ লক্ষ মানুষ অসহনীয় কস্ট ভোগ করছেন। যারা পানিবন্দ হয়ে আছেন। করোনা না হলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কথা না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ঈমানের পরীক্ষা নিচ্ছেন। বাংলাদেশে করোনা এসেছে। এই করোনার কারণে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় যে কাজ শুরু করেছিলেন আমাদের দেশপ্রমিক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে, সেই কাজটি গত তিন মাস ধরে স্থগিত অবস্থায় থাকার কারণে এই পুরো এলাকা এখন পানির নিচে চলে গেছে। আমি বৃহস্পতিার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়, এবং সেনাবাহিনী যারা ডিএনডির জলাবন্ধতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার রাত থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন। এসময় শ্রমিক পাওয়া মুশকিল, সেই ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছেন, যেই পাম্প সম্পন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চালু হওয়ার কথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহদাকার সেই পাম্প আজ চালু হয়েছে। আশাকরি এই দুটি পাম্প চালু থাকলে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডিএনডির ভেতর জমে থাকা পানি নিস্কাশন হয়ে যাবে।

এসময় ডিএনডি উন্নয়নের প্রকল্প পরিচালক ১৯ ইসিবি’র লেঃ কর্ণেল মাশফিকুল আলম জানান, যে দুটি নতুন পাম্প বসানো হয়েছিল সে ২টি পাম্পকে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে এই মুহুর্তে চালানো সম্ভব নয় বলে ম্যানুয়ালি চালানোর উপযোগী করা হয়েছে। পুরোনা পাম্প হাউজ থেকে বাইপাস লাইন করে পুরো ডিএনডির জলাবদ্ধতায় থাকা অতিরিক্ত পানি নিস্কাশিত করা হবে। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মেগা প্রজেক্টে অর্ধশত খাল সংস্কার করেছিলাম। এছাড়া বেশ কিছু খালের কাজ আটকে আছে উচ্চ আদালতে দখলকারীদের মামলার কারণে। এই সময়ের মধ্যেই গত কয়েক মাসে সেই খাল গুলোতে ময়লা আবর্জনা ফেলে পুর্বের অবস্থানে নিয়ে গেছেন এলাকাবাসী। ফলে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যদি খালগুলো বহমান থাকতো তবে এই জলাবদ্ধতা হোত না। আমরা আশা করছি আগামী ৪৮ঘন্টার মধ্যে ডিএনডি বাসী ভালো সুফল পাবেন।

এর আগে করোনা দূর্যোগকালীন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্বকপালনরত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদ কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এমপি শামীম ওসমান পিপিইসহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন সিনিয়র সাংবাদিকদের হাতে।

২০ লাখের অধিক বসতিপূর্ন ডিএনডির জলাবদ্ধতার লাঘব করার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের প্রচেষ্টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ প্রকল্প ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর শুরু করা হয়। এ প্রকল্পটি ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথমে ছিল। তখন এটি তড়িগড়ি করে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এ ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এ প্রকল্পের ভেতরে অবৈধ স্থাপনা, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, বিদ্যুত ও পানির লাইন রয়েছে। এ গুলো দুরীকরণ করতে এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে। এখন আমরা মনে করি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ১৩শ কোটি লাগবে। তবে বর্তমানে অন্তত আরো ৫০০ কোটি টাকা হলে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অর্থ বরাদ্দ না হলে ডিএনডিবাসীকে জলাবদ্ধ হয়েই অনেকদিন ভুগতে বলে উল্লেখ করেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৬২-৬৮ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ। যার মধ্যে নারায়গঞ্জ-৪, ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, কদমতলী, শ্যামপুর, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকা রয়েছে। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সনের বন্যায়ও ডিএনডিতে পানি প্রবেশ না করায় মানুষ ডিএনডিতে বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে থাকে। এতে করে অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে থাকে ডিএনডিতে। ইতিপূর্বেও একাধিকবার ডিএনডিতে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছিলো। চলতি সালের এপ্রিল মাস থেকে ফের ডিএনডিতে শুরু হয় জলাবদ্ধতা। যা এখন ভয়াবহস রূপ ধারণ করেছে। এদিকে ডিএনডির অনেকস্থানে প্রভাবশালীরা মাছ চাষের জন্য বিভিন্নস্থানে পানি আটকে রেখেছে। এতে ডিএনডিবাসীর দূর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন এলাকাবাসী।

নিউজবিডি৭১/এম কে / ২০ জুন ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

গত দুই মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ৷ তবে এবারের বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে৷ সিলেটে কেন এত ঘন ঘন বন্যা? গবেষকরা বলছেন,...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান