আড়ৎটি প্রতিষ্ঠা লাভের বয়স এক যুগ হলেও কোন ইজারা দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং নেননি পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদক কারণ অনুসন্ধানে জানতে পারেন, এর পেছনে রয়েছে মাসিক ঘুষ রহস্য।

 

যোবায়ের হোসেন :

রাজধানী ঢাকা মহানগর উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম ওয়ার্ড হল উত্তরার ১,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯ ও ১০ নং সেক্টর নিয়ে গঠিত ১নং ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটির ফুটপাথ থেকে আয়ের উৎস মিরপুর ১ কেও হার মানিয়েছে। পুরো এলাকা আবাসিক হলেও বানিজ্যিকভাবে অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে এগিয়ে। তদারকি ও বিশেষ নজড়দারি, জবাবদিহি, ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযান না থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীরাই ট্রেডলাইসেন্স বিহীন।

১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত সিটি কর্পোরেশনের ১নং আঞ্চলিক অফিসের সব বিভাগেই অলসতা ও খরচ না থাকার অজুহাতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা দেখা যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব অবহেলার কারনে স্থানীয় ও বহিরাগত প্রতারক, ফুটপাত চাঁদাবাজ, ভ্যাট- ট্যাক্স ফাঁকিবাজ, ভেজাল মিশ্রনকারি, অসাধু ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে ওয়ার্ডটি। সিটি কর্পোরেশনের রোড পরিদর্শক, সুপারভাইজার এবং তাদের নিয়ন্ত্রনাধীন নিজস্ব মাঠ কর্মীরা গভীর রাতে রাস্তা খনন করে বাসা- বাড়ী, কর্পোরেট অফিস, আবাসিক হোটেল, রেষ্টুরেন্টে গ্যাস ও পানির সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকের অনুমতি না নিয়েই বাড়ীর মালিকরা তাদের ফ্ল্যাটে অবৈধ গ্যাস ও পানির সংযোগ দিয়ে মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাট বানিজ্যিকভাবে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় ভাড়া দিচ্ছেন। সরকারি ভ্যাট – টেক্স আদায়, নিয়ম কানুন পালনে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টিতে কাউন্সিলর ও প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারি কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই, সবাই নিজস্ব তহবিলে অর্থসংগ্রহে ব্যস্ত।

ওয়ার্ডটির পানি উন্নয়ন বোর্ড এর জায়গায় গড়ে উঠেছে ২ টি মাছের আড়ৎ এবং সেক্টরের ভেতরে ব্যক্তি মালিকানা স্থানে বসছে বিশাল পাইকারি কাঁচা বাজার। মাছের আড়ৎ ও পাইকারি কাঁচা বাজারে দৈনিক ২ থেকে ৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। এই আড়ৎ ও বাজারের কোনটিতেই সরকারি কোন খাজনা খারিজ নেই। আব্দুল্লাহপুরে অবস্থিত মাছের আড়তটি গড়ে উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নিজস্ব সম্পত্তিতে। বিআইডব্লিউটিএ মাঝে মধ্যে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে, আর পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্তক মূলক সাইন বোর্ড লাগিয়ে ব্যক্তি বিশেষের উপর দায়ভার চাপিয়ে নিজেকে দোষমুক্ত রাখার চেষ্টা করে।

মাকের্টটিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি এই সম্পত্তিতে দুটি আড়ৎ রয়েছে, ৪৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোতালেব এর দখলে অন্যটি স্থানীয় বিএনপি সমর্থক নেতা অরুন ও তরুন শাহের দখলে। আড়তটিতে দৈনিক প্রায় ২ কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। অর্থ লেনদেনের সূচকে এটি ঢাকার অন্যতম বিশাল আড়ৎ। আড়তটি ঢাকার প্রবেশ মূখে ও যাতায়াত রাস্তা সহজ হওয়ার কারনে সাভার, আশলিয়া, গাজীপুর ও ঢাকা উত্তরের খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের বৃহৎ অংশের কেনাকাটার স্থান।

লেনদেনের সূচকে আড়তটির বার্ষিক ইজারা প্রশ্নে বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। আড়তটির বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, আড়তটি পানি উন্নয়ন বোর্ড নিজস্ব সম্পত্তিতে থাকার কারনে সিটি কর্পোরেশন এর ইজারা দিতে পারছেনা।

আড়তটির প্রতিষ্ঠা লাভের বয়স এক যুগ হলেও কোন ইজারা দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং নেননি পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদক কারন অনুসন্ধানে জানতে পারেন, এর পেছনে রয়েছে মাসিক ঘুষ রহস্য। (….. চলবে)।