সম্প্রতি এক টেলিভিশনে লাইভ প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করেছেন। তার এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এখবর জানিয়েছে।

টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সমাজে ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে। আর যে কোনো সমাজেই ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে সেখানে অশ্লীলতা বেড়ে গেছে।’ এসময় পাকপ্রধানমন্ত্রী নারীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শ দেন।

ইমরান বলেন, ‘পর্দার ধারণাটা কী? এটা কুকর্মের ইচ্ছাকে দমন করে। সব পুরুষের ইচ্ছা দমনের শক্তি নেই। আপনি যদি অশ্লীলতা অব্যাহত রাখেন, তাহলে এর পরিণতিতো ঘটবেই। কেবল আইন দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।’

সমাজে অশ্লীলতার জন্য বিবাহবিচ্ছেদের হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে দাবি করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন, ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প হলিউডের অনুকরণ করা শুরুর পর থেকে ভারতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ইমরান খানের এমন মন্তব্যের পর পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এতে তারা হতবাক হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ মন্তব্য শুধু যে কেন ও কীভাবে ধর্ষণ ঘটছে সেটি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় তা কিন্তু নয়, এর মধ্য দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীদের ওপর দায় বর্তানো হয়।

দেশটির অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিকরা ইমরান খানের মন্তব্যকে প্রকৃত পক্ষে ভুল, সংবেদনশূন্য ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ধর্ষণের দায় একমাত্র ধর্ষকের এবং যে ব্যবস্থা ধর্ষককে সুযোগ দেয়।

এর আগে গতবছর একটি গণমাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য নারীদের দায়ী করেছিলেন পাকিস্তানের এক ধর্মীয় নেতা৷ সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ না করায় তোপের মুখে পড়েছিলেন ইমরান।

 

 

আই এইচ