Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

সারাদেশ

নরসিংদীতে সাধারণ জনগণ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রেণ ট্রাফিক পুলিশের যন্ত্রণার জীবন

সাইফুল ইসলাম রুদ্র: নরসিংদী জেলখানার মোড়। বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক কনস্টেবল মোঃ রোমান। বিকালে ব্যস্ততার ফাঁকেই কথা হলো এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। উনত্রিশ বয়সী মোঃ রোমান বললেন, জীবিকার তাগিদে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছে তার জীবন।

নানা রোগ-বালাই আর শারীরিক যন্ত্রণা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। দায়িত্ব শেষে বাসায় ফেরার পরই হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারেন শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রণা।

রোমান আরো বললেন, রোদ-বৃষ্টিতে পুড়ে দায়িত্ব পালন করলেও গাড়ির বিকট হর্ন আর কালো ধোঁয়া জীবনকে শেষ করে দিচ্ছে। বাসায় যাওয়ার পর নাক থেকে শুধুই কালো ময়লা বের হয়। কফের সঙ্গেও আসে একগাদা ময়লা। শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চোখ জ্বালাপোড়া আর কানে কম শোনা এখন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

মাধবদী বাজার সংলগ্ন ট্রাফিক সার্জেন্ট হুমায়ুন বললেন, ‘ আমি গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। চাকরিটাই সম্বল। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশে চাকুরি করতে গিয়ে যেন জীবনের সবকিছু থেমে যাচ্ছে। শব্দদূষণ আর কালো ধোঁয়ার কারণে জীবন হয়ে পড়েছে বিপন্ন। ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে যখন টিভির সামনে বসি, তখন অল্প সাউন্ডে কোনো কিছুই শুনতে পাই না। যখনই সাউন্ড বাড়াতে চাই, তখনই স্ত্রীর আপত্তি তুমি কি কানে কম শোনো? তাকে বলতে পারি না, যে ডিউটি করি তাতে শ্রবণশক্তি কমে আসছে।’

উপরের দুটি ট্রাফিক পুলিশের মনের ভাবই বলে দিচ্ছে নরসিংদী শহরে মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে জনজীবনে কী ভয়ঙ্কর ক্ষতিটাই না হচ্ছে! বৃস্পতিবার নরসিংদী শহরে দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে কথা হয় ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টের সঙ্গে। তাদের প্রত্যেকের মুখ থেকেই বের হয়ে আসছিল অসহনীয় যন্ত্রণার কথা।

ট্রাফিক পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, তাদের বিভিন্ন অসহায়ত্বের কথা। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান, গাড়ির হর্ণের তীব্র শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। হর্ন বাজাতে যতই নিষেধ করা হয়, চালকরা তত বেশি করে বাজান। এতে অধিকাংশ সময়ই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

ট্রাফিক পুলিশদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোদ-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তাদের কোমর ও মেরুদন্ডে ব্যথা হয়ে যায়। ছড়ি নিয়ে সার্বক্ষণিক হাত নাড়ানোর ফলে হাতেও যন্ত্রণা করে। দায়িত্ব শেষে ব্যারাক কিংবা বাসায় ফেরার পরই তারা টের পান এসব যন্ত্রণা। এমন ব্যথার কারণে অনেকেরই রাতে ঘুম হয় না। এছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় লেগে থাকে সর্দি-কাশি-জ্বর। অনেককে ভুগতে হচ্ছে ফুসফুসের যন্ত্রণায়ও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, শারীরিক এসব যন্ত্রণার বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘ভালো না লাগলে চাকরি ছেড়ে চলে যাও। মানবিক দিকটা তারা কখনই দেখতে চান না।’

চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধুলো-বালি, হাইড্রোলিক হর্ণের মধ্যে দায়িত্ব পালন করলে জীবনের শেষ দিকে জটিল অসুস্থতায় ভুগতে হবে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের। ফুসফুসে দেখা দেবে নানা জটিলতা। থাকবে ব্রংকাইটিসসহ নানা উপসর্গ।

নিউজবিডি৭১/ এম কে / ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

গত দুই মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ৷ তবে এবারের বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে৷ সিলেটে কেন এত ঘন ঘন বন্যা? গবেষকরা বলছেন,...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান