(এই সংবাদ লেখার সময় ফরিদগঞ্জ থেকে খবর আসে নোমান ও তার কিশোর গ্যাং জহিরুল ইসলাম বাবুর ছোট ভাই শিবলুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয় প্রশাসন সহ সবাই নোমান গ্যাংয়ের কাছে জিম্মি।)

 

মাছুম কাজী :

‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই প্রবাদ বাক্যের যথার্থ কার্য সংঘটিত করে আসছে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার পশ্চিম বড়ালির নোমান। এক সময়ের বিএনপি’র অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা নোমান বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অনুপ্রবেশকারী হয়ে নিজেকে আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

এলাকায় জমি দখল করা, অল্প কিছু জমি কিনে তার আশেপাশের অন্যের জমি দখল করা তার কাজ। এসব করে ইতিমধ্যে নোমান সহ তার ভাইয়েরা অবৈধভাবে গড়ে তুলেছে বিশাল সম্পত্তি, করেছে ডুপ্লেক্স আলীশান বাড়ী।

প্রতিবেশীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কিছু দিন পূর্বেও নোমান আর তার ভাইদের কিছু ছিলনা। হঠাৎ করে বাংলাদেশে ইয়াবার আবির্ভাব ঘটলে এদেরও পরিবর্তন ঘটে। তাছাড়া কারো পাওনা টাকা আদায়, বেদখল জমি দখল করা, এমনকি ভাড়াটিয়া খুনী হিসেবে সুপারি নিয়ে কন্টাকে মার্ডার করা তাদের গোপন ব্যবসা বলে জানা যায়। তার এবং তার ভাইদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একাধিক কিশোর গ্যাং।

এছাড়াও রয়েছে নোমানের মহিলা গ্যাং তাদের ভয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও কোন মামলা এবং সাধারণ ডায়েরীও নিতে ভয় পায়। সম্প্রতি তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্য- মানিক, রুমেন, সোহাগ, জাহাঙ্গীর, ছিডা, মিন্টু, ফরহাদ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০-২৫ জনের দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী বাহিনী জহিরুল ইসলাম বাবুকে জানে মেরে ফেলার জন্য তার বাড়ীতে গিয়ে দরজা জানালা ভাঙ্গার জন্য চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে তার বাগানে লাগানো সুপারি গাছ সহ অন্যান্য ফলজবৃক্ষ গাছ কেটে ফেলে চিৎকার চেচামেচি করে সম্পূর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এই বিষয় নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী হওয়ার কথা থাকলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন ডায়েরী এবং মামলা হয়নি বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ১৪৫ ধারা করে উক্ত জমির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছে। নোমান এবং তার কিশোর গ্যাংয়ের অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকা থেকে একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক দল ঘটনাস্থলে গেলে এবং এলাকাবাসীকে জিজ্ঞাসা করলে বেরিয়ে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নোমানের বাসার সামনেই বসবাস করেন নূরুল আলম। তার বিবাহ উপযুক্ত দুই মেয়ে ও ছেলে, স্ত্রী সহ একটি সংসার আছে। তার বাসার সামনেই নোমান তার ষাড় গরু দিয়ে পাল করা সহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে নূরুল আলমকে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তার পৈত্রিক ভিটা বাড়ী হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে বলে জানায় নূরুল আলম।

নূরুল আলমের স্ত্রী কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদস্য হয়েও মানসম্মানের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা। তাকে কিছু বলতে গেলে স্বপরিবারে রাতের আঁধারে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। আমার স্বামী একজন ওপেন হার্ট সার্জারি রোগী যেকোন সময় হার্ট এ্যাটাক করে মারা যেতে পারে। এভাবেই গ্রামজুড়ে একেরপর এক ভুক্তভোগীর পরিবার তাদের কষ্টের কথা জানাবার জন্য ভিড়বাট্টা করে সাংবাদিকদের কাছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে মোঃ এমরান হোসেন, মোঃ নাছির হোসেন, মোছাঃ মমতাজ বেগম দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, আমরা নোমান এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর আতঙ্কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাপ-দাদাদের ভিটাবাড়ীতে বসবাস করে একটি স্বাধীন দেশে পরাধীন ভাবে জীবন যাপন করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনকে জানাতে চাই, আপনারা তদন্ত করে খোঁজ খবর নিয়ে এই নোমান গংদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আমাদেরকে বাঁচান।

এই বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ফরিদগঞ্জ থানায় গেলে নোমানের বিষয়টি ইন্সপেক্টর তদন্ত বাহারকে অবগত করলে তিনি আইনের অনেক ফাঁক ফোকর দেখাবার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে খোজ নিয়ে জানা যায়, নোমান গংদের সাথে ইন্সপেক্টর তদন্ত সহ অনেক অসাধু কর্মকর্তার সাথে গোপন আতাত রয়েছে।

আবার পরবর্তী সময়ে অফিসার ইনচার্জ চাঁদপুর থেকে থানায় আসলে সাংবাদিকরা তার স্বরণাপন্ন হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে তিনি জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি আপোষহীন লড়াকু সৈনিক। আপনারা নোমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আইনের কারণে সরাসরি মামলা নিতে পারছিনা।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বাবুকে জানান, আগামীকালকে আপনি একটি সাধারণ ডায়েরী করবেন, আমি সাথে সাথে প্রসিকিউশন দিয়ে কোর্টে পাঠাতে আদেশ দিব। ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদ হোসেন সত্যিই একজন ন্যায়পরায়ণ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আমি কখনো ছাড় দেইনা। অন্যদিকে ঢাকা থেকে মুঠোফোনে ইন্সপেক্টর তদন্তের কাছে মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। থানায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী এবং অভিযোগ নেওয়ার বিড়ম্বনায় ইতিমধ্যে বাবুর ভাই শিবলুকে কুপিয়েছে দূর্বৃত্তরা।

এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানা পুলিশের মামলা নিতে এত অনিহা কেন? বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা উচিৎ। নোমানের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ এ বিষয় নিয়ে নোমানের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার কথা হলে তিনি জানান, সব ষড়যন্ত্র। আমার বিরুদ্ধে বাবু ৭-৮টি মামলা করেছে। তার মধ্যে অস্ত্র আইনেও মামলা আছে। জমিটি আমার নয়, আমার ভাইয়ের।

আমাদের জমি তারা জোর করে দখলের পায়তারা করছে। আমার ভাই গাছে ডাব পাড়তে উঠলে বাবু পিছন থেকে আঘাত করে জখম করলে ৫-৬টি সেলাই লাগে। অন্যদিকে এই বিষয় নিয়ে জহিরুল ইসলাম বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মারামারির সময় আমি আমার ফরিদগঞ্জ বাজারে বাটার শোরুমে ছিলাম। আইনের মাধ্যমে আমরা পরপর দুইটি রায় পেয়েছি।

কোন ভাবে আমাদের সাথে কাগজপত্রে এবং মামলায় জয়ী হতে না পেরে আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সবসময় মিথ্যা প্রভাগন্ডা ছড়ায়। এলাকাবাসীর দাবী অতিসত্তর এই দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সালিশি বিচারের মাধ্যমে মিমাংসা না করলে উভয়ের মধ্যে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় তার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে তাঁর কুসুম বাগানে কোন সন্ত্রাসীদের স্থান নেই। সবাই আসবে আইনের আওতায়, এমনটাই দাবী সবার। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।