(নির্দোষ সাংবাদিকদের মারধরের সংবাদটি প্রকাশ হলে মিথ্যাবাদী ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ছলে বিভিন্ন জনকে জানায় ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। এই কথা যদি রোমান মসজিদে উঠে পবিত্র কোরআন একহাতে নিয়ে অন্য হাত সন্তানের মাথায় রেখে বলতে পারে সেদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে অন্য কিছু করার চেষ্টা করবো এবং এই জাতির কাছে বিচার দাবীও করবো না। সামাজিক গণমাধ্যমে রোমানের উপস্থিতির ভিডিও প্রমাণ করে তিনি সেখানে ছিলেন, বাকী ইতিহাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সিসি ক্যামেরায় আছে। হয়তোবা রোমানের অদৃশ্য শক্তিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হয়ে যেতে পারে উধাও। প্রশাসনের কাছে দাবী জরুরী ভিত্তিতে সিসি’র ফুটেজ সংগ্রহ করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী সাংবাদিক সমাজের।)

ভিডিও-১

 

ভিডিও-২

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্কঃ

রাজধানী ঢাকা থেকে একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে এবং সাংবাদিকের দাওয়াতে অনুসন্ধানী দল চাঁদপুরে পৌঁছালে প্রথমে যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। পুলিশ সুপার মহোদয় মিটিংয়ে থাকলে তার কার্যালয়ে পত্রিকা দিয়ে উপজেলা পরিষদের উদ্দেশ্যে গেলে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে তার অফিস কক্ষে অনুমতি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রবেশ করে তার টেবিলে পত্রিকা দেয়। ঐ মুহুর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে কারো সাথে জরুরী কথা বলছিলেন। তার টেবিলের সামনে বসে থাকা ব্যক্তিদ্বয়ের হাতেও তুলে দেওয়া হয় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকা।

তার মধ্যে একজন পত্রিকাটি দেখলেন এবং রেগে গিয়ে চোখ-মুখ লাল করে চেচিয়ে বললো, সব হলুদ সাংবাদিক, এখান থেকে বের হ কুত্তার বাচ্চারা, না হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো। সাংবাদিকদের সদোত্তর আমরা আপনাদের এলাকায় মেহমান হয়ে এসেছি এবং আমরা একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আপনি আমাদের সাথে এরকম খারাপ ব্যবহার করতে পারেন না এবং সাংবাদিকদের অবমাননা করতে পারেন না। তখন তিনি বলেন, তোরা সব বা—লে–র সাংবাদিক। সাংবাদিকরা বললেন আমরা তো আপনার কাছে আসিনি। এসেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তখন তিনি এবং তার সাথে থাকা সঙ্গীরা মারমুখী হয়ে অনেকটা তেড়ে এসে জানালো কার সাথে কথা বলছিস! জানিস, তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান।

উপজেলা চেয়ারম্যান বললো আমার সাথে তর্ক করস আমি কে কিছুক্ষণের মধ্যেই টের পাবি, এ কথা বলে তিনি নিচে নেমে গেলেন। আমরাও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য নিজেদের কোন প্রকার দোষ না থাকার পরেও তার নিকট দুঃখ প্রকাশ করে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে উপজেলা কার্যালয়ের সিড়ির নিচে নামতেই, ওঁৎ পেতে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তার বাহিনী সাংবাদিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র সহ অতর্কিত হামলা চালায়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, সেই সাথে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে আহত করে। সাংবাদিক রাজু এবং মাছুমকে ঘুষি ও লাথি মারে তারা দৌঁড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে আশ্রয় নেয়।

সাংবাদিক আওলাদের ভিডিও ক্যামেরার লেন্স ভেঙ্গে ফেললে সে ক্যামেরা এবং গাড়ী বাঁচানোর জন্য সাংবাদিক শিল্পী এবং তানজিলাকে নিয়ে গাড়ীতে উঠে পুলিশ লাইনের কাছে গাড়ী সহ আশ্রয় নেয়। সন্ত্রাসীদের টার্গেট ছিল সম্পাদক এবং সাংবাদিক মাহবুব আলমের উপর, প্রথমেই ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সম্পাদকের কানে-মুখে পেচিয়ে পরপর দুইটি আঘাত করে হাত দিয়ে। একজন সম্পাদক হিসেবে কোন রকম অপরাধ ছাড়া এই আঘাত বাংলাদেশের সকল সম্পাদককে আঘাত করার সামিল।

দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক মিডিয়াভুক্ত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। এই সংবাদ প্রকাশের পর কোন সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক যদি সন্ত্রাসী রোমানের পক্ষ নিয়ে কথা বলে ভেবে নিবো তার জন্মের ঠিক নাই এবং সে সাংবাদিক নামের বড় দালাল (এভাবে শক্ত কথা লেখার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত)।

সাংবাদিক মাহবুব এবং সম্পাদককে সন্ত্রাসীরা জানে মেরে ফেলার জন্য উপর্যপুরি যতক্ষণ তাদের শক্তি ছিল ততক্ষণ এলোপাতাড়ি ঘুষি-লাথি দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। নির্দোষ সাংবাদিকদের রোমানের অত্যাচার যেন ফেরাউনের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগ্রত করেছে। ঐ মুহুর্তে ফেরাউনের আত্মা হেসে উঠেছিল রোমানের অহংকার দেখে।

সাংবাদিক মাহবুবকে জানে মেরে ফেলার জন্য তার গায়ে থাকা গেঞ্জি গলায় পেচিয়ে ধরে। সাংবাদিকরা রাস্তায় পড়ে গেলে সেখানেও তার বাহিনী ইচ্ছে মতো মাথা থেকে শুরু করে সর্বশরীরে আঘাত করে এবং তাদেরকে দফায় দফায় মারতে মারতে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বড় রাস্তার মুখে নিয়ে যায়। তাদের কোমরে ছিল পিস্তল, একজন বলছিল পায়ে গুলি কর, ঐ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা তার দপ্তরে কর্মরত কেউ ভয়ে সাংবাদিকদের বাঁচাতে আসেনি। ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের হাতে সাংবাদিকদেরকে মারলেন।

তার মার খেয়ে সাংবাদিক ব্যথায় যখন মাথা অন্যদিকে ঘুরাবার চেষ্টা করছে তখন তার পালিত গুন্ডারা সাংবাদিকের মাথা ধরে সোজা করে দিচ্ছিল আর বলতেছিল ভাই মারতেছে মাথা নাড়াবি না। এভাবে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা বিভিন্ন দিক দিয়ে আসছিল আবার নতুন ভাবে সাংবাদিকদেরকে মারছিল। সাথে থাকা সাংবাদিকদের ক্যামেরা লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং সাংবাদিকদের টাকা পয়সাও পকেট হাতিয়ে সব নিয়ে যায় তার অনুসারীরা।

ঢাকা থেকে সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের বাঁচাতে বললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপর থেকে বিষয়টি দেখে পুলিশে খবর দিলে এবং ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশকে জানালে সাংবাদিকদের বাঁচাতে মাত্র তিনজন পুলিশ আসে। এই তিন পুলিশ সাংবাদিকদের বাঁচাবার চেষ্টা করলেও উল্টো পুলিশ সহ সাংবাদিকদের উপর আঘাত অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ ভাইয়েরা সাংবাদিক দুইজনকে একটি অটো গাড়ীতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে থানার অফিসার ইনচার্জ রশিদ এসে সাংবাদিকদের উল্টো বিভিন্ন প্রশ্ন করে চলে যায়, তার আচরণে মনে হচ্ছিল সৃষ্টিকর্তার চেয়েও চেয়ারম্যান রোমানকে ভয় পায় বেশি এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) স্নিগ্ধা সহ কিছু পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অপরাধের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলে এবং নিজেরাও সেখান থেকে প্রস্থান করেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান রোমানের সাথে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে তিনি এবং তার লোকেরা সাংবাদিকদের গায়ে হাত দিবে। সামান্য কথায় এমন অহংকার আর দাম্ভিকতায় উপজেলা চেয়ারম্যান বলছিল তোদেরকে জানে মেরে ফেললেও কিছু হবেনা।

এর আগেও তোদের চেয়ে বড় বড় অনেক সাংবাদিক মেরেছি। তার লোকজন বলছিল রোমান ভাইয়ের ক্ষমতা সম্পর্কে তোমাদের কোন ধারণা নেই। একজন জনপ্রতিনিধি সমাজের বন্ধু জাতির ভরসার স্থল। যেকোন মানুষ তার নিকট আসলে সে থাকবে বিপদ মুক্ত কিন্তু তার এরকম পৈশাচিক আচরণ দেখে মনে হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই রাজনীতি কি শিক্ষা দিয়েছিলেন নাকি তিনি ছিলেন বিশাল মহৎ মনের অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নয়নের সোপানে দিন-রাত খেঁটে চলছেন বাংলাদেশের উন্নয়নে বাঙ্গালি এবং তার সংস্কৃতির মূল ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে। তাঁর যে সব একনিষ্ঠ কর্মী তার আদর্শকে বুঁকে ধারণ করে সমাজের সেবা করবে তারা থাকবে উদার, তাদের ব্যবহার থাকবে অমায়িক। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম রোমানের ব্যবহার তার এলাকায় আসা কিছু সাংবাদিকের সাথে এমন জঘন্য ছিল যা বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে আঘাত করেছে। কারণ বঙ্গবন্ধুও ছিলেন একজন সাংবাদিক। এরকম মাফিয়া ষ্টাইলে চলা লোক গুলো এবং জনপ্রতিনিধি গুলো প্রতিনিয়ত এই মহান ব্যক্তি অর্থাৎ জাতির জনকের আদর্শে বিশ্বাসী এই মিথ্যা বুলি দিয়ে প্রতিনিয়ত জাতির সাথে বেঈমানি করে আসছে।

জাহিদুল ইসলাম রোমান এবং তার পেটুয়া বাহিনীর শাস্তি চাই। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে এই সন্ত্রাসীদের বহিষ্কার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে তার কুসুম বাগানে কোন মাফিয়া, সন্ত্রাসীদের জায়গা নেই। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক বান্ধব জননেত্রীর কর্মী বিশিষ্ট্যজনদের মতে জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকীতেও ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ের দাপটে জাতির জনকের পেশা সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত সাংবাদিকতা আর গণমাধ্যমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়।

কিন্তু এই রূপ হামলা করে গণমাধ্যমের লেখা বন্ধ করা যাবে না। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি দিয়ে শুরু করা অপরাধকারীরা অন্যায়ের দিকে এগোতে থাকে। একসময় সকল অন্যায় আর অপরাধকে পেছনে ফেলে সভ্যতা ও মানবতাবর্জিত অপরাধের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়। তখন অপরাধীরা হয়ে ওঠে বেপরোয়া লাগামহীন। শুরু হয় নিরাপরাধ মানুষ হত্যা। পৃথিবীর সবচে বড় অন্যায়গুলোর অন্যতম অন্যায় হলো নির্দোষ মানুষকে মারা।

যারা নিরাপরাধ মানুষ মারে তখন তারা আর মানুষ থাকে না হয়ে যায় পশু জানোয়ার। তাবৎ পৃথিবীর মানুষ তাদেরকে ধিক জানায়। শুধু সভ্য সমাজ নয়, পৃথিবীর কোনো ধর্মে সমাজে মতবাদে নিরাপদ মানুষ মারার কোনো বিধান নেই। মানুষের আচরণ হলো চরিত্রের সেরা প্রমাণ। মানুষ বড়ই অদ্ভুত ভদ্র আচরণকে দূর্বলতা ভাবে, আর বদমেজাজকে ভাবে ব্যক্তিত্ব। এই মুখ ঠিক মুখ নয় মিথ্যে লেগে আছে” মুখোশ পরা হিংস্র দানব তবুও মানুষ সেজে আছে। যখন সারাদেশে সাংবাদিকরা আন্দোলন করছে ঐ মুহুর্তে নির্দোষ সাংবাদিকদের মারধর করে জনপ্রতিনিধি রোমান সাহেব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার কোন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করছে কিনা একটু খতিয়ে দেখা উচিৎ। তার এই আচরণ অবৈধভাবে সরকার পতন করার নীল নকশার বহিঃপ্রকাশ।

আমি বরাবরই বলে এসেছি, আওয়ামীলীগ এর তুলনা আওয়ামীলীগ। গৌরব, ঐতিহ্য আর সংগ্রামের পথ প্রদর্শক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন কর্মী দেশ ও মাতৃকার ব্যাপারে যেটুকু সচেতন-আন্তরিক, তা অন্য কোনো সংগঠন থেকে আসা কর্মীদের কাছে অপ্রত্যাশিত। বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অনুসরণ তা অন্য কোনো নেতাদের কাছ থেকে অপ্রতুল।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের একজন কর্মীর যে শ্রদ্ধা আর অনুকরণীয় আদর্শ, তা অন্যদের কাছ থেকে ততোটা কল্পনা বিলাস। ভালো মানুষ হবার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ‘মন’কে অসম্ভব সুন্দর করতে হবে। একদম স্বচ্ছ পবিত্র। সহজ সরল। যদি এক কথায় বলি, তাহলে বলতে হবে- যে খারাপ কাজ করে না, তাকে ভালো মানুষ বলে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্দোষ সাংবাদিকদের মারধর করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান চাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে হঠাৎ কেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি অনুসন্ধান করা খুব জরুরী। মুজিব শতবর্ষেও ম্যাজিস্ট্রেড’র উপস্থিতিতে তার কক্ষেই সরকার দলীয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক অস্ত্রসহ হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের উপর হামলা! দুদকের কাছে প্রার্থনা রোমানের সম্পদের হিসাব নিলে হয়তবা বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের আকুল আবেদন প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। অভদ্র মানুষেরা বিপজ্জনক নয়। বিপজ্জনক হলো ভদ্র মানুষের মুখোশ পরা কিছু রং পাল্টানো মানুষ। জানোয়ার নয়, মানুষের আচরণ হতে হবে। ভেবেছিলাম কিছু বলবো না, লিখবো না কিছু, শেয়ার করবো না। বন বিড়াল অনেক সময় নিজেকে বাঘের মত ভাবতে থাকে, চেষ্টা করে বাঘের মত আচরণ করতে, হুংকার দিতে। মাঝে মাঝে শখের বসে একটু-আধটু বচনভঙ্গি, আকার ইঙ্গিত, শব্দ-বাক্য করারও চেষ্টা করে। এতেই সে মহাখুশী। আনন্দে আত্মহারা। নিজেকে বাঘ ভাবতে থাকে, ভাবতে থাকে বনের রাজা, আধিপত্যকারী একক শক্তি। অহংকার দাম্ভিকতায় বন বিড়াল নিজেকে বাঘের আচরণ অনুকরণ করতে যেয়ে নিজের অস্তিত্ব হারায়। আমাদের সমাজের চারপাশে এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ থেকে নামিয়ে পশু ভাবতে শুরু করে, বাঘের আচরণের মত নোংরা আচরণ নিজের মত করে প্রকাশ করা শুরু করে, নিজেকে বাঘের মত শক্তিশালী হিসেবে প্রকাশ করতে আনন্দবোধ করে। মানুষকে বাঘ বা কোনো জানোয়ার নয়, মানুষই বাঘ বা জানোয়ারদের নিয়ন্ত্রণ করে।

আমার মনে পড়ে মামার বাঘ শিকার করার কাহিনী। আমার জন্মের আগ থেকেই মামার বাঘ-হরিণ শিকার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মামার অতিথিদের বৈঠকখানায় যারা গিয়েছে, তাদের নতুন করে বলতে হবে না- বাঘ আর হরিণের চামড়ায় কীভাবে কারুকার্য করে সাজিয়েছে। মামার একমাত্র বোন আমার মা’র জন্যে হরিণের মাংস নিয়ে আসতেন আর আমরা গল্প শুনতাম। আমলকির মত স্বাদে হরিণের মাংস এখনো যেন ঠোটে লেগে আছে। আবার যারা কথায় কথায় নিজেদের বাঘ মনে করে হুংকার দিয়ে থাকে, যারা বলে- বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকাইস না! আমি বাঘ! আমার থাবা সহ্য করতে পারবি না! পরে ওজন নিতে পারবি না! তোমাদের এখানে আসতে দিবো না! সেখানে যেতে পারবি না ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে, তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা। মানুষের অভ্যাস যখন খারাপ হয়ে যায়, তখন ৪ পা ওয়ালা পশুর থেকেও আরো নিকৃষ্ট হয় মানুষ। আমরা মানুষ হয়ে যখন জন্মগ্রহণ করেছি, পশু হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না , আমরা ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না। যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে, তাকে আল্লাহতায়ালা ঘৃণা করেন।

খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম করোনা মহামারীতে সম্মানিত ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। মহান আল্লাহ তাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। আমিও দোয়া করি তিনি যেন শত বছর বেঁচে থাকেন। আমরা গিয়েছিলাম চাঁদপুর বেড়াতে তিনি আমাদেরকে বিনাদোষে মারধর করলেন, অপমান করলেন বিনিময়ে তিনি যদি তার পরিবার নিয়ে সম্পাদকের বাড়ীতে আসে আমরা সাংবাদিকবৃন্দ ছাগল জবাই করে মেহমানদারী করবো। সম্পাদকের প্রয়াত পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মাতা মুকুল বেগম শিক্ষা দিয়ে গেছেন কিভাবে মেহমানের সাথে আচরণ করতে হয়।