(আগামী পর্বে আসছে হিজড়া আপন, আলেয়া, রাহেলা, পিংকিসহ চাঁদাবাজ কৃত্রিম হিজড়াদের দৈনিক ও মাসিক আয় এবং তাদের জীবন কাহিনী)

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

রাজধানীর মহাসড়ক থেকে আবাসিক এলাকার আনাচে কানাচে হিজরাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ নগরবাসী। হিজরাদের ভঙ্গিমায় কথা ও শারীরিক কসরত প্রকাশের অনুশীলন জানা এক শ্রেণীর যুবকরা মূখে মেকাপ লাগিয়ে ও থ্রী পিছ কাপড় পড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীবাহি গাড়ীতে জোড়পূর্বক যাত্রীদের থেকে টাকা আদায় করছে।

হিজড়ারা বাসে তিন-চারজন করে ওঠো হাতে তালি দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা না নেওয়া পর্যন্ত তারা গাড়ি থেকে নামে না। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন তারা বেশি বিব্রত হচ্ছেন। হিজড়াদের প্রকাশ্য চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ রাজধানীর সব শ্রেণি পেশার মানুষ। কোনো ভিত্তি না থাকলেও এদের ভয় পায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অফিস-আদালত, বিপনি বিতান, বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, পরিবহন সর্বত্র এদের উপস্থিতি এখন জনমনে রীতিমত আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একবার কাউকে ধরে বসলে চাঁদা না দিয়ে তার রক্ষা নেই। না দিলে পরনের কাপড় খুলে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলা হয় পরিবেশকে। এভাবে অবিরাম চলছে হিজড়াদের প্রকাশ্য নগ্ন ব্ল্যাকমেইলিং।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশ সদস্যরাও পর্যন্ত হিজড়াদের ভয় পায়। আক্রান্তের ভয়ে অনেক ক্ষেত্রে হিজড়াদের প্রকাশ্য ব্ল্যাকমেইলিং দেখেও নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। তাদের ভাষায়, হিজড়াদের আইন আদালত বুঝিয়ে লাভ নেই। এরা বেপরোয়া জীবন যাপনে অভ্যস্ত। পাঁচ দশ টাকার জন্য ছোট বাচ্ছা কিংবা মেয়ে লোকের সামনে কাপড় খুলতে দ্বিধাবোধ করে না হিজড়ারা। দিন-দপুরে লোকালয়ে হত্যা, ছিন্তাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথেও জড়িয়ে পড়েছে লাগম ছাড়া এ হিজড়ারা।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে মাদক পরিবহনের উত্তম মাধ্যমে পরিনত হয়েছে তারা। এলাকা ভিত্তিক প্রতিটি অফিস, কল-কারখানা,ফ্যাক্টরি, পন্য রফতানী কোম্পানী, বায়িং হাউজ, হাট- বাজার, শপিং মার্কেট, আবাসিক হোটেল, রেস্টুন্টে, হাসপাতাল, সরকারি অফিসসহ সকল খাতে রয়েছে তাদের মাসিক ধার্যকৃত চাঁদা। তুরাগ থানার অন্তর্গত নলভোগের চিল্ড ফুড ( কাঁকড়া) রফতানীকারক একাদিক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হিজড়াদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এদের নেতাদের সাথে মাসিক চাঁদা দেওয়ার শর্তে দৈনিক ঝামেলা হতে সাময়ীক নিষ্কৃতি পেয়েছি। রাজধানীর বিভিন্ন সেক্টর আবাসিক এলাকার নির্মানাধীন ভবনে মিষ্টি খাওয়ার নামে ভবন মালিকদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করে তা জোরপূর্বক আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, আর তা আদায়ে নোংরা পথ অবলম্বন করে থাকে বলে একাধিক বাড়ীর মালিক অভিযোগ করেন। হিজড়াদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন সংস্থা অভিযোগ গ্রহন করেন না বলেও জানান ভূক্তভোগীরা।

এদের প্রতি প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকা ভূক্ত সন্ত্রাসী,অস্ত্র ক্যাডার ও কিলারদের নিরাপদে আনাগোনা ও আশ্রয় স্থান হয়ে থাকে হিজড়া লিডারদের বাসায় এমনই অভিযোগ এলাকাবাসীর। বাস ষ্টেশন ও আবাসিক এলাকা ভিত্তিক হিজড়াদের চাঁদাবাজি : চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রনে হিজড়া সম্প্রদায় উত্তরা আব্দুল্লাহপুর থেকে মহাখালী, রামপুরা ও মিরপুরের ইসিবি পর্যন্ত আটটি ভাগে বিভক্ত। উত্তরা আব্দুল্লাহপুরের পশ্চিম থানা এলাকা নিয়ন্ত্রন করেন আলেয়া, পূর্ব থানা এলাকা নিয়ন্ত্রন করেন রাহেলা ও পিংকি। আজমপুর থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রন করেন আপন গ্রুপ।

বিমান বন্দর থেকে ক্ষিলখেত পর্যন্ত সারিকা গ্রুপ। ক্ষিলখেত থেকে বনানী ও মিরপুরের ইসিবি পর্যন্ত নিয়ন্ত্রন করেন পিংকি গ্রুপ। বেকার যুবকরা যেভাবে হিজড়া হচ্ছে : হিজড়াদের কষ্ট বিহীন শ্রমে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয়ের পথ সুগম হওয়ার কারনে অনেক বেকার যুবক হিজড়া হওয়ার জন্য হিজড়া সর্দারদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক হিজড়া প্রধান জানান, শহরে প্রায় শতাধিক যুবক হিজড়া হওয়ার জন্য হিজড়া সর্দারদের তালিকায় রয়েছে। মেয়েদের চেহারার সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে এমন অনেক বেকার যুবক আমাদের দলে ভিড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব যুবক ছেলেরা আমাদের কাছে এসে থাকে। প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, হিজড়াদের কাছে আসা বেকার যুবকদের মস্তিষ্ক ধোলাইয়ের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও টিন শ্যাট বাড়ী।

এসব বাড়ীতে যুবকদেরকে ভাষা, শারীরিক ও বুকের ফিটনেস পরিবতর্ন এবং সাঁজগোছ শেখানো হয়। পুরুষাঙ্গ কর্তন- মানসিক পরিবর্তন ও শরীরিক বিবর্তন শেষে যাতে কোন যুবক পালিয়ে না যায়, সে জন্য গোপনে ঢাকার বাহিরে তাদের চুক্তি ভিক্তিক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান দিয়ে অবচেতন করে অন্ডকোষসহ পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন এবং বুকের ফিটনেস পরিবর্তনের জন্য জেল পুশ করা হয় । এরপর মাসখানেক বিশ্রামে রেখে তাদেরকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয় চাঁদাবাজীর কর্মকান্ডে। নাম পরিবর্তন- মানসিক পরিবর্তন ও শারীরিক বিবর্তন শেষে প্রতিটি যুবকের নামে পরিবর্তন আনা হয়।

পরিবর্তিত নামেই তাকে সারা জীবন নারী হয়ে থাকতে হয়। একে অপরকে ভাইয়ের পরিবর্তে আপা বলে ডাকতে হয় এবং বয়ষ্ক হিজড়াদেরকে বাবার পরিবর্তে গুরু মা ডাকতে হয়। ভবিষৎহীন পথভ্রষ্ট যুবক: পুরুষাঙ্গ কেটে কৃত্তিমভাবে বানানো এই হিজড়ারা শারীরিকভাবে হয়ে থাকে অনেক শক্তিশালী। হিজড়া বানানোর পর এ সব যুবকরা হয়ে পড়ে ভবিষৎহীন। পরিবার ও সমাজে ভিড়ে না লজ্জায়। আশ্রয়হীন এসব যুবকের ভবিষৎ সম্মুখ বলতে থাকেনা কোন শব্দ। ভবিষৎহীন পথহারা এ সব যুবকদেরকে বানানো হয় রোবটের মতো আদেশ প্রাপ্ত সৈনিকের গুনে। সন্ত্রাসী কর্মে হিজড়া সম্প্রদায় : লিঙ্গ কেটে হিজড়া হয়ে যাওয়া যুবকরা এলাকার আনাচে-কানাচে ঘুরা-ফিরা করে সংগ্রহ করে থাকে এলাকার ধনাঠ্য থেকে মধ্যে আয়ের পেশাজীবিসহ সকল মানুষের তথ্য। মানুষের বাড়ীতে নাঁচানাঁচি ও অবাধ অনুপ্রবেশের কারনে তাদের দৃষ্টি মধ্যে থাকে সহায়-সম্পত্তির ঠিকানা।

তাদের কাছে থাকা এলাকার স্থানীয় তথ্য সংগোপনে ডাকাত চক্র ও ছিন্তাইকারীদেরকে দিয়ে ডাকাতি ও ছিন্তাই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করে থাকে। সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা- যদি কোন সন্ত্রাসী মামলা- হামলাসহ কোন ভেজালে জড়িয়ে পড়লে তাদের নিরাপদ আশ্রয় স্থল হয় হিজড়াদের আবাস স্থলে। এ পর্যন্ত একাদিক খুনি ও ডাকাতকে হিজড়াদের মেস থেকে অনেক কষ্টে গ্রেফতার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার একাংশ নিয়ন্ত্রনকাররী এক হিজড়ার বাড়ী ও তার পরিচালিত হিজড়া মেছ, এজহার ভূক্ত পলাতক খুনি, ডাকাত ও ছিন্তাইয়ের আসামীদের গোপনে ও নিরাপদে থাকার প্রকাশ্য আশ্রয় স্থল। উত্তরা ১৩ নং সেক্টর পার্কে প্রকাশ্যে খুন হওয়া আদনানের খুনি তালাচাবি রাজুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল হিজড়াদের মেছ থেকে।

সিরাজগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামী বাপ্পি যার একমাত্র ঢাকাতে থাকার আশ্রয় স্থান ছিল হিজড়াদের ঐ বাড়ী বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এরা কোন ধরনের হিজড়া- হিজড়া শব্দটি বহুল আলোচিত সমালোচিত একটি শব্দ। এ শব্দের সম্প্রদায়কে ভারতের হিন্দুদের একাংশ দেবতা হিসেবে গ্রহন করেছে। আর ভারতে ঐ সব নারী- পুরুষকে হিজড়া হিসেবে গ্রহন করে থাকে যারা জন্মগতভাবে ভ্রন(জেনেটিক) সমস্যার কারনে হিজড়া হয়ে থাকে, কিন্তু আমাদের দেশে যারা রাস্তা-ঘাটে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তাকেরকে তো মানুষ রুপি এক শ্রেণীর জানোয়ার হাজারো প্রলোবন এর মাধম্যে তাদের অন্ডকোষসহ লিঙ্গ কেটে হিজড়া বানিয়েছে। এরা তো সমাজের সুস্থ যুবক হিসেবে রাষ্ট্রের জনশক্তি ছিল।

তাহলে কেন আজ তাদেরকে আমরা হিজড়া হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রাস্তা-ঘাটে চাঁদাবাজী করার লাইসেন্স দিচ্ছি। এদেরকে তো তাদের গডফাদাররা বানিয়েছেই তাদেরকে দিয়ে এ কাজ করানোর জন্য। তাহলে তাদেরকে গ্রেফতার না করে কেন আমরা সন্ত্রাসী কাজে অবাধ করে দিয়েছি। এ সুযোগে সমাজের সুবিধা ভুগিরা শত শত যুবককে নষ্ট করছে। একটি গবেষনা সংস্থা প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখাপ যায়, দেশব্যাপি প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃত্রিম হিজড়া রয়েছে।

সমকামী বিবাহ- উত্তরায় আপন নামে এক কৃত্রিম হিজড়া তিনি আশিক নামে এক ব্যাক্তিকে বিবাহ করেছেন রেজিস্ট্রি ও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে। বাংলাদেশে দুই পুরুষের সমকামী বিবাহ আইনগত ভাবে নিষিদ্ধ। ব্যাপক নজড়দারিতে হিজড়ারা- হিজড়া ব্যবসা ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় গুরু মায়ের সাথে যাতে কেউ গাদ্দারী এবং পালিয়ে না যেতে পারে ও নিয়ন্ত্রীত এলাকায় অন্য হিজড়ারা না আসতে পারে, সে জন্য থাকে সারাক্ষন কর্মী হিজড়াদের দিয়ে কড়া নজড়দারীর ব্যবস্থা সমাজ বিচ্যুত যুবকদের আর্তনাদ- লোভের টানে যেসব যুবকরা কৃত্তিমভাবে হিজড়াত্ব গ্রহন করেছে কিছুদিন যেতে না যেতেই যখন লোভের মোহ কেটে যায়, তখনই সমাজে ফেরার নেশা তাদেরকে পেয়ে বসে। উদগ্রিব ঐসব যুবকদের আর্তনাদ ও মানসিক বেদনা যে কারো পক্ষে মেনে নেওয়া পাহাড় সমান বোঝা।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন- বাড়ী ফেরার বেদনায় যখন চোখে অশ্রু বইতে শরু করে, তখনই পালিয়ে যাওয়ার সন্দেহে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় হিজড়াত্ব গ্রহন করা যুবকদের। টর্চার সেল- পালিয়ে যাওয়ার সন্দেহে থাকা হিজড়াদের শারীরিক নির্যাতনের জন্য রয়েছে নির্যাতন কক্ষ। ঐসব কক্ষে বেত, চাবুক, মোটা লাঠি, ছুরি এবং হাত-পা বাদার জন্য রয়েছে দড়ি। হিজড়া নিয়ন্ত্রনে ব্যার্থ হলে- লোভের টানে বছরে প্রায় শতাধিক যুবক হিজড়া হয়ে থাকে।

এদের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে, অতিত ভবিষৎতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেলে, যুবকদের মাঝে এ ধরনের বাজে প্রবনতা বাড়ার আশক্সক্ষা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ঝুকি রয়েছে।