Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

বাণিজ্য

রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ধস

ঢাকা : করোনাভাইরাসের প্রকোপে ধস নেমেছে রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়। সাধারণ ছুটিতে একটানা বন্ধ ছিল প্রায় সব হোটেল-রেস্তোরাঁ। এখন সেই স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁ খুললেও মিলছে না ভোজন রসিক। মালিকরা বলছেন, পুরোটা লোকসান দিয়ে টিকে আছেন তারা। যদি আর দুই/এক মাস এভাবে চালাতে হয়, তবে ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিবেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, শাহবাগ, বাংলামোটর মোড়ে অবস্থিত হোটেল রেস্তোরাগুলো ঘুরে দেখা যায়, খাবার খেতে আসা কাস্টমার নেই বললেই চলে। যারা আসছেন তারা কোনো কারণে খাবার ব্যবস্থা না করতে পেরে হোটেল-রেস্তোরায় ঢুঁ মারছেন।

এসব হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকপক্ষ বলছেন, যদি ১০০ ভাগ ধরি সে ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ খাবার খেতে আসছেন। এমন অবস্থায় আমাদের হোটেল খোলা রাখতে দিন দিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। যেখানে ঈদের পরে পুরোদমে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো খোলা রেখেছি।
মোহাম্মাদপুরে অবস্থিত বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, আগে আমাদের হিসাব হত মাসব্যাপী কিন্তু আমরা এখন প্রতিদিন বাজার করছি এবং চেষ্টা করছি বাজারগুলো ওই দিনই শেষ করতে। পাশাপাশি কর্মচারীদের বিল পরিশোধ করছি দিনের টা দিনেই। তারপরও দেখা যাচ্ছে দিন শেষে ৫/১০ হাজার টাকা লোকসান গুনছি। আমাদের আরো দুটি রেস্তোরাঁ ছিল, আপাতত ওইগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।

এই ম্যানেজার আরো বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এটিও বন্ধ করতে হবে কেননা হোটেল রেস্তোরায় মানুষ পারতপক্ষে খাবার খেতে আসছে না।

অন্যদিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত মিতালি রেস্টুরেন্টেরও একই অবস্থা। সেখানকার স্বত্বাধিকারী রাসেল মাহমুদ বলেন, আমরা যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করছি। নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের কোনো কমতি নেই। তবুও ভোজন রসিকদের রেস্টুরেন্টে খেতে আসার কোনো আগ্রহ দেখছিনা। আমাদের ব্যবসা নিন্মমুখী।

তবে রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা স্বাস্থ্যবিধি কথা বললেও ক্রেতাদের মনের আছে নানা সংশয়। ধানমন্ডি-১৫ তে অবস্থিত সিক্রেট রেসিপিতে আসা এক অতিথি বলেন, আসলে যতই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা থাকুক না কেন, ভেতর থেকে এক ধরনের সংশয় কাজ করে। এজন্যই হয়তো হোটেল রেস্তোরাঁয় মানুষ আসা কিছুটা কমে দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে গেলে হয়তো আবার সবাই রেস্তোরাঁমুখী হবেন।
সবকিছু মিলিয়ে প্রায় দীর্ঘ তিন মাস রেস্তোরাঁ-হোটেল বন্ধ থাকার পর মালিকরা ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান মালিক। অনেক রেস্তোরাঁয় কর্মচারী ছাঁটাই যেমন হয়েছে তেমনি অনেকেরই মাসিক ভাড়ার টাকা বকেয়া পড়ে আছে কয়েক মাসের।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, পর্যায়ক্রমে হোটেল রেস্তোরা খুলছে কিন্তু সবগুলো রেস্তোরাঁ এখনো খোলেনি। বর্তমান করোনায় এমনি ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না, তার উপর প্রায় ২১ জেলায় বন্যা এবং অতিবৃষ্টি যোগ দিয়েছে। কর্মচারী নাই কাস্টমার নাই। ঢাকা শহর ফাঁকা। তাই আমাদের রেস্তোরাঁর ব্যবসাও খারাপ যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁর মালিক আমাকে জানিয়েছে এই অবস্থায় আর চালিয়ে নিতে পারছে না ব্যবসা। যার একটা রেস্তোরাঁর ৪টা আউটলেট ছিল সে দুটো বন্ধ করে দিয়ে দুটো চালাচ্ছে। অনেক মালিকই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।
রেস্তোরাঁর স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ব্যবসা করছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খেতে এসে অনেকেই মাস্ক পরতে চায় না, তারা বলে খেতে এসেছি তো মাস্ক পরবো কেন? এখানে একটু সমস্যা হচ্ছে। সবকিছু মিলে আমাদের ব্যবসা ধুঁকছে।

নিউজবিডি৭১/ এম কে / ২৮ আগস্ট ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ

কালচার

সিলেটে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ডে লাইফ সিল্ক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা হাজির হয় সিলেটের...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান