Connect with us

Hi, what are you looking for?

Newsbd71Newsbd71

বাংলাদেশ

সাহেদের যেভাবে উত্থান ,কোভিড ডেডিকেটেড কার ইশারায়?

সাহেদের যেভাবে উত্থান ,কোভিড ডেডিকেটেড কার ইশারায়?
সাহেদের যেভাবে উত্থান ,কোভিড ডেডিকেটেড কার ইশারায়?

ঢাকা : প্রতারণা আর চাপাবাজি দিয়েই উত্থান হয়েছিল সাহেদের। একসময় মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা করে গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। প্রতারণা মামলায় জেলও খেটেছিলেন। অন্তত দুই ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু তার টিকিটির নাগালও পায়নি কেউ। কারণ তিনি নিজেকে কখনও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনও গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। নিজেকে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জাহির করে অর্থের বিনিময়ে টক শো’তে অংশ নেওয়াও শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো.সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের। করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রিজেন্ট হাসপাতাল ও প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা হয়েছে নিয়মিত মামলাও।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা বেশ কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি করে আসছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালে। সেখানে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে তারা জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। রিজেন্টের মালিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের দিকে সাহেদ ধানমন্ডি এলাকায় বিডিএস কিক ওয়ান এবং কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) নামে দুটি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১১ সালে তাকে প্রতারণা মামলায় একবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে দ্রুতই তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর প্রতারণার অর্থ দিয়ে তিনি রিজেন্ট গ্রুপ নামে ব্যবসা শুরু করেন। চালু করেন রিজেন্ট হাসপাতাল। যদিও এর কয়েক বছর আগেই হাসপাতালের অনুমোদন নিয়েছিলেন তিনি।

সূত্র জানায়, এবার ভিন্ন কৌশলে চলা শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তিনি নিজেকে কখনো অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন নানা পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পন্সর সহযোগিতা করে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতেন। এসব কিছু কাজে লাগাতেন নিজের স্বার্থে। অফিস, হাসপাতাল বা বাসা সবখানেই সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তোলা ছবি বাঁধাই করে টাঙিয়ে রাখতেন। যাতে সবাই বুঝতে পারে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাফেরা রয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবিকে পুঁজি করেই রিজেন্ট মালিক সাহেদ বিভিন্ন অপকর্ম করছেন। এ বিষয়ে কেউ কিছু বললেই দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চার-পাঁচ বছর ধরে নিজেকে কথিত বুদ্ধিজীবী বা রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চ বা রাজনীতি গবেষণা কেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠানও চালাতেন তিনি। এজন্য গাঁটের টাকা খরচ করে বিভিন্ন টক শো’তে অংশ নিতেন বলেও জানা গেছে। টক শো’তে বিরোধী রাজনীতিকদের বিষয়ে বেশি বেশি সমালোচনা করা সাহেদের বিরুদ্ধে একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও শোনা গেছে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সুবিধা আদায়ের জন্য ‘নতুন কাগজ’ নামে একটি নামসর্বস্ব পত্রিকাও খুলেছেন তিনি। নিজেকে সেই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। এসবই ছিল তার বিভিন্ন অপকর্ম থেকে নিজেকে বাঁচানোর ঢাল।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ৩২ টি মামলা খুঁজে পেয়েছেন। এর বেশির ভাগই প্রতারণা মামলা। কারণ প্রতারণা করে অর্থ-সম্পদ গড়ে তোলাই ছিল তার মূল কাজ। এজন্য করোনা মহামারি চলাকালেও স্পর্শকাতর একটি বিষয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে বিবেকে বাধেনি তার।

জানা গেছে, সাহেদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সাহেদ অল্পদিনেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার এই উত্থানের বিষয়ে এলাকাবাসীও হতবাক। যদিও সাতক্ষীরায় তাকে সবাই প্রতারক সাহেদ হিসেবেই চেনে। এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের অপকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। প্রতারণা করাই যার মূল কাজ, সেই ব্যক্তি কীভাবে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন, কীভাবে কথিত বুদ্ধিজীবী সেজে টক শো’তে অংশগ্রহণ করতেন, তার প্রমোটার কারা এসব নিয়ে চলছে আলোচনা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। একদিন পর গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হয় গত ২১ মার্চ। অথচ হাসপাতালটির অনুমোদনের মেয়াদ ২০১৪ সালেই শেষ হয় এবং পরে আর সেটা নবায়ন করা হয়নি। অনুমোদনহীন একটা হাসপাতাল মহামারির মতো সময়ে কী করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার তালিকাতে যুক্ত হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে ‘উপরের কেউ’ বলার কারণে রিজেন্টকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিতো বলে প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে আট জনকে আটক করে র‌্যাবের মোবাইল কোর্ট। সোমবার (৬ জুলাই) র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। হাসপাতালটি টেস্ট না করেই কোভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ও ‘নেগেটিভ’সনদ দিতো বলে জানিয়েছেন সারওয়ার আলম।

সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, তিন ধরনের অভিযোগ ও অপরাধের প্রমাণ পেয়েছেন তারা। নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দিতো তারা, সরকার নির্ধারিত হওয়াতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা তাদের, কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লক্ষাধিক টাকা নিয়েছে পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে মর্মে সরকারের কাছে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতাল রোগীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বিরাট অঙ্কের টাকা আদায় করছে। অনুমোদন না থাকার পরেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, তাগিদ দেওয়ার পরেও লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ আরো অনিয়ম করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানএ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবহেলা দুটোই ছিল। মোটা দাগে, এটি আইন ও নিয়মনীতির যে দৃষ্টান্ত, বিশেষ করে বিচারহীনতার সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত। ২০১৪ সাল থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এমন প্রতিষ্ঠান কোভিড চিকিৎসা দূরে থাক, এতদিন পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা কী করে দিতে পারলো সেটাই বড় প্রশ্ন।’

হাসপাতাল মালিকের ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবহেলা দুটোই রয়েছে মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা.কামরুল হাসান খান বলেন, ‘রিজেন্ট মালিক মো. সাহেদ নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মানুষের পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করেন। অধিফতরের অযোগ্যতা হচ্ছে এ হাসপাতালটিকে কোভিড ডেডিকেটেড হিসেবে নির্ধারণ করা।’

‘যেখানে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন, সেখানে কোয়ালিটি ও আইনগত অবস্থানের বিষয়ে ক্লিয়ার থাকা দরকার ছিল। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি বেআইনি প্রতিষ্ঠানকে নিজেরাই নির্ধারণ করেছে। বৈধতা নেই এমন হাসপাতালকে সরকারিভাবেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ এটা তাদের (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) দেখা দরকার ছিল। স্বাস্থ্য অধিপ্ততরের অযোগ্যতার জন্য সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’বলেন অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে মিটিং’লিখে সাহেদের ফেসবুক পোস্ট অনুমোদনহীন একটা হাসপাতালকে কী করে অধিদপ্ততর কোভিড চিকিৎসায় নির্ধারণ করে দিলো জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনি এপ্রিল মাসের কথা চিন্তা করুন। তখন রোগীরা ঘুরে বেড়াচ্ছিল, বেসরকারি কোনও হাসপাতাল রোগী নিচ্ছিল না। সেই সময় আমাদের কেউ বলেছে, তারা (রিজেন্ট হাসপাতাল) এরকম (রোগী ভর্তি) করতে চায়, আপনারা দেখেন। তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে রোগীর সেবার জন্য। তখন এটা বিবেচনা করা হয়নি, দেখা হয়নি।’

স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও বিএমএ’র (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা.রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘২০১৪ সালের পর যে হাসপাতালের নবায়ন করা হয়নি, যে হাসপাতালে এত অনিয়ম সে হাসপাতালকে কোন বৈধতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিডের মতো মহামারিতে সরকারি তালিকাভুক্ত করলো, সেটা খুঁজে বের করা দরকার। তারা তো কিছু চেকই করেনি, যদি করতো তাহলে ধরা পড়তো। পরবর্তী সময়েও হাসপাতালটিকে মনিটর করা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করে অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা পরিচালক ( হাসপাতাল) এসব ইন্সপেকশন করে না, তারা তাদের রুটিন কাজও করেনি। এতে তাদের অবহেলা এবং অদক্ষতা দুটোই রয়েছে।’
এসব বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানকে মোবাইল ফোনে কল করে এবং এসএমএস পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তিনি উত্তর দেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা কাছে ‘আমরা তো তাকে চিনি না’ বলেছিলেন। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেই কর্মকর্তাদের সঙ্গেই রিজেন্ট চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে গত ৭ জুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনশন অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের ( নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা.বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ রিজেন্টের প্রতারণা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতাল নমুনা দেওয়ার নাম করে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করছে। অথচ নিপসম তথা সরকার বিনামূল্যে আরটি পিসিআর পরীক্ষা করছে।’বিষয়টি সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়,‘কীভাবে স্যাম্পল সরবরাহ করতে হবে সে বিষয়েও নির্দেশিকা রিজেন্ট হাসপাতালকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া বা সতর্ক করার পরও রিজেন্ট হাসপাতাল তা অনুসরণ করছে না। যার কারণে রিজেন্ট হাসপাতালের কোনও স্যাম্পল নিপসমের পক্ষে পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত নয় বলে প্রতীয়মান হয়।’এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে।

তার ঠিক দুই দিন পর (৯ জুন) নিপসম পরিচালককে ফিরতি চিঠি দিয়ে প্রতিদিন উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতিদিন ৫০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ‘নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো’ বলে জানানো হয়।

নিউজবিডি৭১/এম কে / ০৮ জুলাই ২০২০

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে ২৪ লক্ষের পরিবার

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ

কালচার

সিলেটে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ডে লাইফ সিল্ক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা হাজির হয় সিলেটের...

কপিরাইট Ⓒ ২০১২-২০২১ নিউজবিডি৭১.নেট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বাড়ী- ৪৯ (১ম তলা), রোড- ১২, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। প্রকাশক- মোহাম্মদ মানিক খান